Monday, April 6, 2020

ফেমিশড রোড : বেন ওকরি

আত্মারা মানুষ হয়ে জন্মাতে চায় না। মানুষ হলেই আসে অতৃপ্ত আকাঙ্খা, ভালবাসার মায়াজাল, মৃত্যুর অস্তিত্বের জ্ঞান। মহাবিশ্বের সৌন্দর্য ছেড়ে জীবিত মানুষ হয়ে কালাতিপাত করায় কোনও আনন্দ নেই।

তবু দুনিয়ার নিয়ম মেনে আত্মাদের জন্মগ্রহণ করতে হয় 
মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়া এক আত্মাকে নিয়ে এই আখ্যান। সে জানে না, কতবার তাকে জন্মানোর পর কমবয়সেই মরে যেতে হয়েছে। সে জানে না, কতবার একই বাবা-মা-র সন্তান হয়ে সে রক্তমাংসের দেহ পেয়েছে।
মানুষ হয়েও তার সঙ্গে আত্মাজগতের সম্পর্ক সম্পূর্ন ছিন্ন হয়নি। তাই সাধারণ চোখে অদৃশ্য অনেক কিছু সে দেখতে পেত। যেমন..
.
"আমি দেখলাম কিছু লোক পিছনদিকে হাঁটছে। দেখতে পেলাম দু-আঙুল লম্বা এক বামনকে। একটা লোক পায়ে মাছের ঝুড়ি ঝুলিয়ে হাতে ভর দিয়ে হাঁটছে। বুকে বাচ্চা বাঁধা কিছু মহিলার পিঠে স্তন, দেখলাম তিনটে হাতওয়ালা সুন্দর-সুন্দর শিশুদের। ওদের মধ্যে একটা মেয়ের মুখের একপাশে চোখ। আমি খুব ভয় পেয়ে চলে যাচ্ছিলাম বাজার ছেড়ে এমন সময় মেয়েটা আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে চিৎকার করে উঠল, 'ওই ছেলেটা আমাদের দেখতে পাচ্ছে।'"
.
ছেলেটা, অর্থাৎ এই দুনিয়ায় যার নাম আজারো, সে জন্মেছে এক হতদরিদ্র পরিবারে। তার বাবা গোঁয়ার প্রকৃতির মানুষ। মুটের কাজ করে। রোজগারের অধিকাংশ-ই চলে যায় বাড়িভাড়া মেটাতে। এই কাহিনী তাদের নিয়েই। 
উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ অবধি ছড়িয়ে আছে বেন ওকরি-র ভাষার জাদু। তুখোড় ন্যারেটিভের পাল্লায় পড়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পাঠক। জাদুবাস্তবতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক নিদর্শন। অভাব কিভাবে মনুষ্যত্বের উপর প্রভাব ফেলতে পারে তা ফুটে উঠেছে নিখুঁত শব্দের সারিতে। জীবনযুদ্ধে হারতে চলা মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর নেশায় কিভাবে বদলে যেতে পারে! চমকে দিতে পারে খিল্লি করা আপামর জনগণকে! 
1991 এর বুকার প্রাইজ পাওয়া উপন্যাস।

2 comments: