১
বিকাশ একসঙ্গে এতগুলো কথা বলেছে এটা চট করে
মেনে নিতে আমাদের কষ্ট হচ্ছিল। ‘হ্যাঁ’-‘না’ ছাড়া
ওর মুখে কখনও কিছু শুনিনি। অন্য কেউ
বললে আমরা তুমুল ঠাট্টা করে
তৎক্ষণাৎ উড়িয়ে দিতাম। কিন্তু বিকাশ বলেই, যতই আজগুবি শোনাক, কথাটা একেবারে ঝেড়ে ফেলতে পারলাম না। ঠিক যেমন করে
‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলে, ঠিক
তেমনই নিরুত্তাপ ভঙ্গিতে ও বলছিল। গোটা-গোটা
বাক্য হলেও সে-গুলো যেন অনেকগুলো ‘হ্যাঁ’-‘না’-র সমষ্টি।
“সতর্ক থাকলে তোরা অন্তত বিপদে পড়বি না।” ও নিচু স্বরে বলল।
টিফিন খাওয়া হয়ে গেছিল। একটু পরেই
স্যার চলে আসবেন ক্লাস নিতে। বাধ্য হয়েই যে-যার জায়গায় গিয়ে বসলাম। কিন্তু বিকাশের কথাগুলো মাথা থেকে
বেরতে চাইল না। কেন বলল ও এই
কথা? উদ্দেশ্যটা কী?
স্কুল শেষ হওয়ার পরে ওকে আমরা
প্রায় ঘিরে ধরলাম, “সত্যিই বলছিস? ইয়ার্কি মারছিস না?” ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে বেরতে-বেরতে আমি জিজ্ঞেস করলাম।
“না।”
“ভূতের সেনাবাহিনী?”
“হ্যাঁ।”
“ভাল কথা। আসুক। অশরীরী তো!
যার শরীর নেই, তাকে ভয়
পাওয়ার-ও কিছু নেই।” বাপ্পা হেসে বলল। আমরাও হাসলাম। বিকাশ ওর পুরনো ফর্মে
ফিরেছে।
বিকাশ হাসল না। শান্ত গলায় বলল, “সক্ষমতা ও শক্তি শরীরের উপর নির্ভর করে
না। শরীর-ই বরং
একটা অস্তিত্বের ক্ষমতাকে সীমিত করে দেয়,
তার প্রকৃত ক্ষমতার তুলনায়।”
আমরা মুখ
চাওয়াচাওয়ি করলাম। আবার দুটো সম্পূর্ণ
বাক্য! হল কি ছেলেটার?
বিকাশ আমাদের মুখের উপর
চোখ বোলাল। ক্লান্ত মুখে
বলল, “আমি মজা করছি না।”
“তুই আমাদের বিশ্বাস করতে বলছিস যে ভূতরা আসবে?”
“ভূত সৈন্য। তাদের একটা
মিছিল।”
“একই ব্যাপার।”
“না। একই ব্যাপার নয়।” বিকাশ শান্ত গলায় বলল, “একজন সৈন্য সাধারণ মানুষের তুলনায় দৈহিক শক্তি ও দক্ষতায় অনেক
এগিয়ে থাকে।”
“না। ভবিষ্যতের শুধু
দুর্ঘটনাগুলো আগাম টের
পাই। স্বপ্নে।” ও
আলতো স্বরে বলল, “ছোটবেলায় ঘুমের মধ্যে দেখা ঝাপসা, আলগা দৃশ্যগুলো কয়েকদিন, কয়েকমাস পর যখন
বাস্তবে ঘটতে থাকল, তখন বুঝেছিলাম।”
আমরা স্থিরভাবে চেয়ে রইলাম ওর
দিকে। ওকে আমাদের থেকে
অনেকটা ভিন্নরকম মনে
হচ্ছিল। একই স্কুল-ইউনিফর্ম সত্ত্বেও ও যেন কোথাও আমাদের থেকে আলাদা।
“মানে, তোর
সুপার পাওয়ার আছে?”
ব্যঙ্গে গুরুত্ব দিল না বিকাশ, “হয়ত তাই। কিংবা এটা
হয়ত অভিশাপ। কী হবে
জানি, কিন্তু আটকাতে পারি না, আগেও পারিনি।”
আমরা বুঝে
পেলাম না কী বলব।
বিকাশ উদাসীন অথচ ঈষৎ ভয়তাড়িত গলায়
বলছিল, “আমার কথা তোরা বিশ্বাস করলেও তেমন কোনও লাভ
নেই। আমাদের কারও কথা
সরকার, প্রশাসন শুনবে না। শোনার মতো যুক্তিও তো নেই। দেখ, প্রতি একশো একান্ন বছরে
এই মিছিলটা বেরোয়। দুনিয়ার কিছু-কিছু জায়গা টহল দেয়, নিজেদের ইচ্ছামতো। এবার সেই
টহলের অঞ্চলগুলোর মধ্যে কলকাতা রয়েছে। মিছিল
চলে যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে ওই সময়টুকুর স্মৃতি মুছে যায়
সকলের মস্তিস্ক থেকে। ফলে এই
ঘটনার অস্তিত্ব কখনও কেউ জানতে পারেনি।”
বিকাশের তত্ত্ব বা কল্পনা চূড়ান্ত উদ্ভট শোনালেও
মনটা খচখচ করছিল। যে কোনওদিন কিছু বলে না,
আচমকা সে কিছু বললে তাকে
অগ্রাহ্য করা মুশকিল। তা ছাড়া ব্যাপারটা সত্যি-সত্যি ঘটলে কেমন হবে সেটা আন্দাজ করতেও
রোমাঞ্চবোধ করছিলাম। তর্কের খাতিরে যদি মেনেও
নিই ঘটনাটা ঘটবে, তবে শুধু কি
নিজেরাই সাবধান হব?
না, অন্যদের-ও সতর্ক করা
কর্তব্য। সত্যি মিথ্যে যাচাই করার উপায়
নেই ঠিকই কিন্তু সাবধানতা অবলম্বন করলে ক্ষতি তো
নেই! বিকাশ বলল যে, এসব করে লাভ নেই। কেউ পাত্তা দেবে না। তবু আমরা
ছাড়লাম না। ও যদি আমাদের
সঙ্গে ঠাট্টাই করে থাকে, তা হলে আমরাও শেষ অবধি দেখব। আমরা এগারো জন নিজেদের জমানো টাকা খরচ
করে একটা মাইক কিনলাম। সাইকেলে চেপে
ওই মাইক নিয়ে সতর্ক করে
দিতে আরম্ভ করলাম যতটা দূর
অবধি পারা যায়। লোকজন কৌতুকের চোখে
আমাদের দেখল, বক্তব্য শুনে খিলখিল করে হাসল। কিন্তু কেউ
এতটুকু বিশ্বাস করল
না।
বিকাশ হতাশ
হল না আমাদের প্রচেষ্টার ব্যর্থতার সংবাদ পেয়ে। মলিন হেসে বলল, “জানতাম। যাইহোক, যেটুকু করার
করেছিস। এরপর অন্তত আফসোস হবে
না।”
“কী হবে?
ভূত আর্মি এলে কী হবে
ঠিক?” রাতুল জিজ্ঞেস করল।
বিকাশের মুখের রেখায় মৃদু একটা
কাঁপুনি চারিয়ে গেল
লহমায়। ঢোক গিলল বারকয়েক। বলল, “ধ্বংসযজ্ঞ।”
বিকাশকে ভরসা
করলেও ওর কথা বিশ্বাস করা অসম্ভব বলেই ঠেকতে লাগল। আমরা চুপ
করে রইলাম। ভূতরা ভয় দেখালেও তা লুকিয়েচুরিয়ে,
তাই তো মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম। আর তারা কিনা প্রকাশ্যে দক্ষযজ্ঞ বাঁধাবে! ধুস!
“সবাইকে আমরা
রক্ষা করতে পারব না। কিন্তু নিজেদের পরিবারের কাউকে ঘরের
বাইরে বেরতে না দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। কেমন?” বিকাশ বলল।
আমরা ঘাড়
নাড়লাম। ওই দিনটা মঙ্গলবার। সবাইকে ঘরে
আটকে রাখার জন্য যা করতে
হয় আমরা করব। অসুস্থতার অভিনয়, পাগলামো, ভাঙচুর যা-ই
হোক।
বিকাশের কথা
আমরা বিশ্বাস না করলেও মেনে
চলছিলাম নির্দেশাবলী। দেখাই যাক
না কী হয়।
কয়েকদিনের মধ্যে নতুন একটা খবর
আমাদের চমকে দিল। সমস্ত পশু-রা দলবেঁধে জায়গা ছেড়ে চলে
যাচ্ছে। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম আভাস পায়
তারা, তাই হয়ত। কিন্তু আবহাওয়া দপ্তর তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আভাস পেল না। এদিকে আমাদের বুক দুরুদুরু করতে
আরম্ভ করেছে। বিকাশের বক্তব্যের সপক্ষে এটা ভাল
প্রমাণ! আমরা খবরের চ্যানেলে ফোন করে ব্যাপারটা জানানোর উদ্যোগ নিলাম। “ভূত” শব্দটা শুনেই ওরা
হেসে ফেলল।
“কোন ক্লাসে পড়ো?”
“নাইন।”
“পড়াশোনায় মন
দাও, বুঝলে?”
বিকাশ আগের
দিন রাত্রে ফোন করল। বলল, “সম্ভবত সকালের দিকেই আসবে
ওরা। রাস্তায় বেরবি না। কাউকে বেরতে দিবি না।”
“দেব না।” ওকে জানালাম। ছেলেটা নিজের
স্বভাবের বিরুদ্ধে গিয়ে এতগুলো আস্ত-আস্ত বাক্য বলে যাচ্ছে, আর আমি সামান্য এই কাজটুকু
পারব না? প্রতিজ্ঞাটা নিজের প্রতিও।
২
কর্মব্যস্ত দিন। ঝকঝকে, মিষ্টি সূর্যালোকে ধুয়ে যাচ্ছে চারদিক। যানবাহনের হর্নের শোরগোল, লোকজনের কথাবার্তায় মুখরিত পথঘাট। রঙচঙে বা ধূসর
বিভিন্ন শীতবস্ত্রে শরীর মুড়ে নানান পেশার মানুষেরা বেরিয়ে পড়েছে। এই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক দিনটার মাঝখানে আচমকাই, কালচে-অন্ধকার বর্ণের এলোমেলো আকৃতির বিশাল একটা ছায়া
লাফিয়ে পড়ল কলকাতা শহরের রাজপথে। মুহূর্তে তাপমাত্রা নেমে গেল কয়েক
ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেন বিশাল একটা প্রাচীন উড়ুক্কু ডাইনোসর
তার ডানায় আড়াল করে ফেলল রোদ ও উত্তাপ।
অবাক হয়ে সবাই আকাশের দিকে তাকাল। না, মেঘের চিহ্নমাত্র নেই। সূর্য আগের
মতোই উজ্জ্বলতা নিয়ে
বিদ্যমান। কেবল রোদটা এসে
পৌঁছচ্ছে না। শীত কামড়ে ধরল ভীষণ তীব্রতায়। জড়োসড়ো হয়ে গেল
পথচলতি মানুষেরা। গন্তব্যের দিকে যাত্রা থামিয়ে কী ঘটছে
বোঝার তাগিদে তাকাল এদিক-ওদিক। এ-রকম হঠাত করে দাপুটে ভঙ্গিতে ঠান্ডার
সোচ্চার হাজির হওয়ার পিছনে যুক্তি কী? কেমন করেই বা রোদটা আটকে গেছে শূন্যে?
তখনই কয়েকজনের নজরে পড়ল মিছিলটা। অনেক দূরে। বিস্তারিত চোখে না পড়লেও
ভিড়ের আদল দেখতে ভুল হয়নি। আজকে কি এমন কোনও বিরাটকায় মিছিল বেরনোর কথা ছিল? গতকালের
সন্ধ্যা ও রাতের খবর মনে করার চেষ্টা করল কেউ-কেউ। না, মিছিল সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা
তো ছিল না! তবে?
কয়েক সেকেন্ড পরে
সবাই দেখতে পেল। পলকের জন্য মিছিলের আয়তন ও জনসংখ্যা তাদের স্তম্ভিত করে দিল।
না, নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা মাথায় এল না ওদের
দেখে। যেন অসীম কোনও
স্রোতের ঢেউ। অগুনতি মাথার ভিড়। তারা এগিয়ে আসছে। মিছিল ক্রমশ এগিয়ে আসছে। চলনের গতিবেগ-ও যথেষ্ট অস্বাভাবিক বলেই মনে হতে থাকল কিংকর্তব্যবিমূড়
হয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকা পথচারীদের। এত দ্রুত কি হাঁটা যায়! মানসে এই প্রশ্নের উদ্রেক
হওয়া মাত্র ওদের চোখ গিয়ে পড়ল মিছিলের একদম সামনে থাকা লোকগুলোর পায়ের দিকে। কেঁপে
উঠল তারা।
তাদের পা চলছে ঠিকই, কিন্তু
পদক্ষেপ মাটি অবধি পৌঁছচ্ছে না।
এই দৃশ্যের প্রতিক্রিয়া
ওদের শরীরের প্রত্যন্ত কোনও স্থানে তীব্র এক চিৎকারের জন্ম দিল। সেই আর্তনাদের শিকড়ে
দলা পাকিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিলবিলে ভয়ের পিচ্ছিলতা।
হাওয়ায় পা চালিয়ে আসা মিছিলটা এগোতে থাকল অপরাজেয় ট্যাঙ্কের
মতো। রাস্তায় থাকা গাড়ি অবলীলায় মাটিতে চেপ্টে দিয়ে, বাস-লরিদের খেলনার মতো ছিটকে আছড়ে
ফেলতে থাকল পাশের বাড়িগুলোর দেওয়ালে।
তারা মানুষ নয়। একবার ভাল করে তাকালে, দেখামাত্রই এটা স্পষ্ট হয়ে
যায়। অবয়ব মানুষের মতোই, হাঁটাচলার ভঙ্গিতে সামান্য আড়ষ্টতা থাকলেও তা
মানিয়ে যাচ্ছে। যেন বরফের মূর্তিরা আচমকা জ্যান্ত হয়ে উঠে ভুসোকালির পোশাক গলিয়ে সদলবলে পায়চারি করতে বেরিয়ে পড়েছে। প্রত্যেকের চেহারা আলাদা। মুখ খুব
একটা স্পষ্ট দেখতে না পাওয়া গেলেও দেহের গড়ন,
উচ্চতা-য় ফারাক বোঝা যাচ্ছে। নির্বিকারভাবে হেঁটে আসছে ভয়াল সুনামির মতো এক অলৌকিক পাঁচিল। পথে এতটুকু বাধা
সৃষ্টি করা যাবতীয় কিছু দুমড়ে দিচ্ছে।
গহীন কোণে জন্ম নেওয়া চিৎকারটা বেরতে চাইল। মিছিল এবং মিছিলের কার্যক্রম দেখতে পাওয়ায়, ভয়ে অথবা বিস্ময়ের সম্মোহনে টুকরো-টুকরো ভয়ের নিঃশ্বাস বাদে
কিছু বেরল না। আর্তনাদের চেষ্টা গিলে
নিয়ে ওরা এবার দৌড়তে আরম্ভ করল পিছনদিকে।
এই মিছিল দৈর্ঘ্যের সমস্ত সংজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে। আমি চারতলার ছাদে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম রাস্তায় একটা স্তরের মতো বিছিয়ে থাকা, চলতে থাকা শক্তিপ্রবাহ। তাদের সামান্য ধাক্কায় মানুষ থেকে
শুরু করে অতিকায় দোকানের কাঠামো, চলন্ত বাস, সবই
ছিটকে যাচ্ছে বিপুল বেগে। কেউ পাশের বাড়ির দেওয়ালে গিয়ে
পড়ছে, কেউ বা সামনের খোলা
এলাকা বরাবর বহুদূরে গিয়ে আছড়ে
পড়ছে।
“ওরা আসলে
কারা? কেন এমন করে?” নির্ময় জানতে চেয়েছিল।
বিকাশ জবাব
দিয়েছিল, “জানিস তো, পৃথিবীতে প্রচুর যুদ্ধ হয়েছে আদিম
সময় থেকে। প্রতিটা যুদ্ধে যারা মারা গেছে
তাদের অধিকাংশ-ই যুদ্ধটা বাঁধায়নি। তারা স্রেফ হুকুম তামিল করেছে, মিথ্যে এক কল্পনাকে বিশ্বাস করে। তাদেরকে বোকা
বানিয়ে বা বিভিন্ন অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে আসলে
হত্যা করা হয়েছে। তাদের আত্মা শান্তি পায়নি। তাদের ক্ষোভ মেটেনি। প্রতিবাদ জানাতে তারাই বারবার ফিরে ফিরে আসে,
অনির্বাণ এক ক্রুদ্ধতা বুকে নিয়ে।”
জানি, বিপর্যয়কারী এই বাহিনীর উপরে রেগে
যাওয়া উচিত। কিন্তু রাগের
বদলে মায়াবোধ করছি। এই আপাত-হিংস্র বিদেহীদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি আক্ষেপে জর্জরিত
অসহায় মানুষদের। তারা নিজেদের জীবন
উপভোগ করতে পারেনি। মৃত্যুর পরেও শান্তি পায়নি। এই প্রতিবাদটুকু করে
যদি তাদের বিক্ষোভ অল্প হলেও প্রশমিত
হয়, আমি বিরোধিতা করতে পারি না।
এমন সময়ই
খেয়াল করলাম, চারপাশের রং বদলে
যাচ্ছে। না, রং নয়, যেন রঙের ছায়া পড়ছে। আমি আকাশের দিকে মুখ তুলে
তাকালাম। একি!
বিস্ফারিত চোখে
চেয়ে রইলাম আকাশের দিকে। মিহি সোনার মতো সবজে-হলুদ রঙের
একটা মেঘ নেমে আসছে, সেই
মোটা মেঘের ফাঁক গলে তিলমাত্র আকাশ দেখা যাচ্ছে না। বাতাস থৈ-থৈ করছে
নরম টক-ঝাল গন্ধে। ত্বরিতবেগে নেমে আসতে
লাগল মেঘটা।
নেমে আসছে
স্মৃতিটুকু মুছে দিতে।
---------------------------------
--------------------------------
