Monday, March 26, 2018

মারভেল



অসীম যুদ্ধঃ মারভেলের প্রতি একটি শ্রদ্ধা-সূচক নিবন্ধ
স্বর্ণেন্দু সাহা



 





“আশায় মরে চাষা।”
সব ক্ষেত্রে কথাটা বোধহয় ঠিক নয়। সঠিক পাত্রে পড়লে আশা মানুষকে ‘নাদির’ থেকে ‘যেনিথ’-এ পৌঁছে দিতে পারে। আশা, ভরসা বা স্বপ্ন যাই বলা হোক না কেন, তা সাধারণ মানুষকে জাগিয়ে দিতে পারে। সুপারহিরো-রা তাই এত জনপ্রিয়। হলিউডের সুপারম্যান থেকে শুরু করে শ্রদ্ধেয় নারায়ণ দেবনাথের সৃষ্টি বাঁটুল দ্য গ্রেট, প্রত্যেকেরই জন্ম হয়েছে এক অস্থির সময়ে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, অপরাধের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার ক্ষমতা থাকলেও আমরা বেশীরভাগ সময়েই পিছিয়ে যাই, নিজেদের উপর আস্থার অভাবে। আমাদেরকে হারিয়ে দেয় হেরে গেলে কী হবে, সেই ভয়। আর সুপারহিরো-রা আমাদের হয়ে সেই কাজ যখন পর্দায় করে দেখায় আমরা তার সঙ্গে-সঙ্গে জিতি। তার জায়গায় নিজেদের বসিয়ে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করি। একটু হলেও মনে জোর পাই।
মারভেল স্টুডিও প্রথম তৈরী করল আয়রন ম্যান। তখন হলে গিয়ে সিনেমা দেখার মতো বড় হইনি। বছর-খানেক পর টিভিতে দিল এক শুক্রবার রাত ন’টার সময়। স্পষ্ট মনে নেই, কিন্তু সে-দিন বাবার সাথে কোথাও একটা গেছিলাম। ফিরতে-ফিরতে ন’টা পনেরো। কোনোরকমে জামা-কাপড় বদলে টিভির সামনে। তখন টনি স্টারক উগ্রপন্থীদের ডেরায় বন্দী। বন্দী অবস্থায় ওদের চাহিদা মতো মিসাইল বানিয়ে দেওয়ার বদলে টনি বানায় লোহার বড়সড় এক স্যুট।
“কোনও রকম সুবিধা ছাড়াই টনি ওখানে স্যুটটা বানিয়ে ফেলল, আর তোমরা এতজন বিজ্ঞানী মিলে এত ব্যবস্থা সত্ত্বেও ভাঙাচোরা সেই স্যুটটাকে মেরামত করতেও পারছ না?”
বিজ্ঞানীর দেওয়া জবাবটা আমি ভুলতে পারিনি, “স্যার! আই অ্যাম নট টনি স্টারক

ক্যাপটেন আমেরিকাঃ দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার নিয়ে আমার তেমন আগ্রহ জন্মায় নি। টিভিতে দিলেও দেখিনি। বছর-দুয়েক পর যখন দেখলাম, আমি থ। আমি এত ভাল একটা সিনেমা দেখিনি এতদিন ধরে? অসাধারণ চিত্রনাট্য, ফাটাফাটি অভিনয়, অনুপ্রেরণায় ছড়াছড়ি একের পর এক দৃশ্য তো আছেই। কিন্তু আমি ভুলতে পারিনি একটা সংলাপ। সিনেমা দেখতে বসে প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুর্বল চেহারার, বেঁটে রজারস মুখোমুখি হয় হাট্টাগোট্টা এক লোকের। সে তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে মনের সুখে মারতে থাকে। রুগ্ন স্টিভ চেষ্টা করেও তার সামনে দাঁড়াতে পারছিল না। একসময় লোকটা ওকে বলে যে হার স্বীকার করে নিতে। স্টিভ উত্তর দেয়, “আই ক্যান ডু দিস অল ডে।”

এরপর বিগত দশ বছর ধরে একের পর এক সুপারহিরো চরিত্রকে কমিক্সের পাতা থেকে তুলে পর্দায় এনেছে মারভেল। থর, হক আই, ব্ল্যাক উইডো, হাল্ক, ভিসন, ফ্যালকন, উইনটার সোলজার, অ্যান্ট ম্যান, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ, স্কারলেট উইচ, ব্ল্যাক প্যান্থার। তৈরি হয়েছে স্বপ্নের দল, অ্যাভেঞ্জারস।
যাদের কাজ পৃথিবীকে আসন্ন সমস্ত রকমের বিপদের হাত থেকে রক্ষা করা। তারা সফলও।
নতুন সংযোজন অবশ্যই স্পাইডারম্যান। সোনির থেকে স্বত্ব কিনে নেওয়ার পর মারভেল নিয়ে এল টম হলান্ডকে, যাকে শুধুমাত্র স্পাইডারম্যান ছাড়া আর কিছু হিসেবে ভাবাই যায় না। মারভেলের কাস্টিং নিয়ে কিন্তু কোনও সমালোচনার জায়গা নেই। আইরন ম্যান মানেই রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। ক্যাপটেন আমেরিকা মানেই ক্রিস ইভান্স। থর মানেই ক্রিস হ্যামসওয়ারথ। ডক্টর স্ট্রেঞ্জের ভূমিকায় বেনেডিক্ট কিউমবারবেক তো জাস্ট অসাধারণ। মারভেলের পুরো টিমকে কুর্নিশ আন্তরিকভাবে।
অ্যাভেঞ্জারসের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দু’টো চরিত্র নিঃসন্দেহে আয়রন ম্যান ও ক্যাপ্টেন আমেরিকা। যাদের ছাড়া মারভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স এই মাপের ক্যানভাসে ছড়িয়ে পড়বার জন্য উপযুক্ত সাপোর্ট পেত না।
ইগোয় ধাক্কা লাগায় স্টিভ রজারস ঢাল ফেরত দিয়ে চলে গেছে অ্যভেঞ্জারসের থেকে দূরে কোথাও।
থর রাগনারকে দেখা গেছে যে থরের হাতুড়ি ভেঙে গেছে। তার একটা চোখ নষ্ট হয়েছে। আরেকটাও উল্লেখযোগ্য ব্যাপার ধরা পড়েছে ওই ছবিতে। সেটা হল, থর এখন হাতুড়ি ছাড়াও বিদ্যুত তরঙ্গ টেনেও এনে ব্যবহার করতে পারছে। আর সেই ভাবেও ও মুখোমুখি যুদ্ধে হাল্ককে হারিয়ে দিতে সক্ষম হয়। তবু তার কাছে এখন অস্ত্র নেই, যা সমস্যা।
আসন্ন ইনফিনিটি ওয়ার অ্যাভেঞ্জারসদের সাথে যোগ দিতে চলেছে গার্ডিয়ান অফ দ্য গ্যালাক্সির টিম, যার মধ্যে আছে ড্রাক্স, গ্যামোরা( থানোসের কন্যা), স্টার লর্ড, রকেট ও গ্রুট( আই অ্যাম গ্রূট)।
টেকনোলজির দিক থেকে আগে অ্যাভেঞ্জারসে একমাত্র ছিল টনি স্টারক। এখন চলে আসছে রকেট ও ব্ল্যাক প্যান্থারের বোন সুরি।

  কিন্তু এবার আসছে ম্যাড টাইটান থানোস। যার লক্ষ্য ছ’টা ইনফিনিটি স্টোন। ওই ছ’টা বিশেষ পাথর যে দখল করতে পারবে, তার হাতের মুঠোয় চলে আসবে পুরো ব্রম্ভান্ড। এক তুড়িতে পৃথিবী ধ্বংস করে দেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
থানোসের ক্ষমতাঃ অতিমানবিক শারীরিক শক্তি, দুর্ধর্ষ গতি, দীর্ঘ জীবন, শক্তি নিয়ন্ত্রণ, টেলিপ্যাথি, টেলিকাইনেসিস।

কীভাবে থানোসের মোকাবিলা করবে অতিমানব-দের দল। আদৌ কী পারবে?]



দেখে নেওয়া যাক ছ’টা ইনফিনিটি স্টোনের কার কেমন ক্ষমতা।
সোল(Soul) স্টোন(রং=সবুজ)যে-কোনো জীবিত অথবা মৃত প্রাণীর আত্মাকে চুরি, নিয়ন্ত্রণ ও ইচ্ছামত চালনা করা যায় এই পাথরের মাধ্যমে।
টাইম স্টোন(রং=কমলা) অতীত, ভবিষ্যৎ দেখা যায়, সেখানে সশরীরে যাওয়া যায়। দরকার মতো সময়ের স্রোতের গতি বাড়ানো-কমানো সম্ভব, স্রোতের গতিমুখ পাল্টে দেওয়াও যেতে পারে। পরিবর্তন করে দেওয়া যায় অতীত বা ভবিষ্যৎ। যে-কোনো কিছুর বয়স কমানো-বাড়ানো যায়। একজন কোনও মানুষ বাঁ গোটা বিশ্বকে আটকে দেওয়া যায় একটা সময়ের ঘূর্ণিতে, যে ক্ষমতার নমুনা সামান্যভাবে দেখা গেছে ডক্টর স্ট্রেঞ্জের ক্লাইম্যাক্সে।
স্পেস স্টোন(রং=নীলচে-বেগুনি) এটিকে প্রথম দেখা গিয়েছিল ক্যাপটেন আমেরিকাতে। এর ব্যবহারকারী ইচ্ছামত যে-কোনো জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে। যে-কোনো বস্তুকে তার জায়গা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে দিতে পারেস্পেসকে বাঁকিয়ে দেওয়া কিংবা নতুন করে গড়া জলভাত। শুধুমাত্র চিন্তা করেই পলকে নিজেকে নিয়ে যেতে পারে বিশ্বের সব জায়গায়। ফিজিক্সের ল-কে ব্যঙ্গ করে দু’টো বস্তুর মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে দিতে পারে। থরের পিতা ওডিনের কাছে এটা সযত্নে থাকবার কথা হলেও ইনফিনিটি ওয়ার এর ট্রেলার অনুযায়ী, লোকি খুব সম্ভবত অ্যাসগারড ধ্বংস হবার সময় সেটা নিজের কবজায় নেয়।
মাইন্ড স্টোনঃ(রং=নীল) ব্যবহারকারীর মানসিক শক্তি বাড়বে। যে-কোনও মানুষের চিন্তা পড়ে ফেলার, নিয়ন্ত্রণ করার ও তার স্বপ্নে ঢুকে যেতে পারার ক্ষমতা চলে আসবে। এই পাথর স্কারলেট উইচ ও কুইকসিলভারকে তাদের শক্তি যোগায়। বর্তমানে এটি রয়েছে ভিসনের কপালে।
রিয়্যালিটি স্টোন(রং=হলুদ) এর মাধ্যমে যে-কোনও ইচ্ছাপূরণ ঘটবে। বিজ্ঞানের নিয়মের বাইরে হলেও সেই ইচ্ছা বাস্তবে পরিণত করা যাবে। অসম্ভব কিছু করে ফেলা সম্ভব এই পাথর ব্যবহার করে। তৈরী করে ফেলা যায় অলটারনেট রিয়্যালিটি। অ্যাসগারডের অধিবাসীরা এই পাথরটা কালেকটরের কাছে দিয়েছিল রেখে দেওয়ার জন্য।
এই মুহূর্তে সোল স্টোন কার দখলে রয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে না।
পাওয়ার স্টোন(রং=লাল) সব ধরণের শক্তি ব্যবহার ও প্রয়োজনমত বদলানোর ক্ষমতা। এর মাধ্যমে যে-কেউ নিজের শারীরিক শক্তি ও সহ্যক্ষমতা বাড়িয়ে ফেলতে পারে। এবং অন্যান্য পাঁচটা পাথরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও সক্ষম।

থানোস আসছে। সে একা নয়, তার সাথে রয়েছে ব্ল্যাক ডোয়ারফ, করভাস গ্লেইভ, ইবোনি ম, প্রক্সিমা মিডনাইট ও সুপারজায়ান্ট। প্রত্যকেরই রয়েছে আপন-আপন ক্ষমতা যা সম্মিলিত ভাবে অ্যাভেঞ্জারসদের টিমকে হারাতে মুশকিলে পড়বে না। তা হলে খতম এই ব্রম্ভান্ড।
এই মারাত্মক যুদ্ধে যারা প্রভাব ফেলতে পারে তারা হল আয়রন ম্যান, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ, অ্যান্ট ম্যান, গ্রুট, সুরি, স্কারলেট উইচ, ড্রাক্স এবং লিডার হিসেবে অবশ্যই ক্যাপটেন আমেরিকা।
এপ্রিল 27…




 



No comments:

Post a Comment