মারা যাওয়ার পর জওয়ানদের শহীদ-শহীদ বলে চেঁচামেচি করা হচ্ছে। ওরা কি শুনতে পাচ্ছে? শহীদ না বলে নিহত বললে বিরাট অপরাধ, এই ভাবনা-ও দেখা যাচ্ছে। বাহ! ভগৎ সিং, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বাল গঙ্গাধর তিলক এরা শহীদ আবার ভাড়াটে সৈন্যরা-ও শহীদ? না, বুঝলাম না।
সেই সঙ্গে এটাও সত্যি যে, অন্যান্য পেশাদারদের সঙ্গে ডাক্তার ও সৈন্যদের পার্থক্য রয়েছে। ডাক্তার টাকা পাচ্ছে বটে, কিন্তু তার পরিবর্তে দেওয়া সার্ভিসের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে থাকে অমূল্য একটা জীবন। কিছু ডাক্তার আছেন, যারা রোগীর জীবন বাঁচাতে দাঁতে দাঁত চেপে লড়তে থাকেন। এঁরা শ্রদ্ধার দাবিদার।
আবার ডাক্তার মানেই শ্রদ্ধা করব তা-ও নয়, প্রচুর ডাক্তার রয়েছেন যাদের পূর্বপুরুষ জোঁক। অনেক ডাক্তার আছেন যারা টাকা কামাতে এই ফিল্ডে এসেছেন, সেবাটা কোনও পর্যায়ের প্রাধান্য নয়, ল্যাবের কমিশন খেয়ে-খেয়ে ভুঁড়ির মেদবৃদ্ধি করা যাদের নেশা, এদের জন্যই ভাল মানুষ আচমকা অসুর হয়ে চিকিৎসা কেন্দ্র ভাঙচুর করে।
সৈনিকরা কতজন স্রেফ দেশের সেবা করতে যায় কাকা? 18-19 বছর বয়সে পদাতিক বাহিনীতে যোগ দিতে যাচ্ছে দেশের জন্য লড়ার উদ্দেশ্য নিয়ে? মানি না। শরীর ঠিক থাকলে ওই চাকরিটা খুব সহজে পাওয়া যায়, যা অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর্থিক অবস্থা খারাপ অথবা পড়াশোনা করার মতো মেধা কিংবা মানসিকতা নেই, অথচ শরীরটা তাগড়াই, তারা ঝট করে চাকরি পায়। কারণ এই দিকে প্রতিযোগিতা অনেক কম। সিনেমা দেখে-দেখে সৈন্যদলে যোগ দেওয়াটা দারুণ একটা ব্যাপার বলে মনে হয়ে থাকে। ফাউ মেলে প্রতিবেশীদের সমীহ। সৈন্য হয়ে মাতৃভূমি রক্ষা করব, এটা একটা হাস্যকর কথা, যা যুদ্ধ ব্যবসায়ীরা নিখুঁত কায়দায় মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে।
সৈনিকরা প্রচুর কষ্ট করে এটা সত্যি কথা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পুরো যৌবন কেটে যায়। উপভোগ করার সময় মেলে না। সেই সঙ্গে প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয় তো আছেই। হ্যাঁ, এর জন্য ওদের সহানুভূতি ও সম্মান প্রাপ্য, কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি ঘৃণা প্রাপ্য সরকারি সিস্টেমের, সেই ঘৃণা কিন্তু কেউ করছে না, কারণ দেশপ্রেমের ধুয়ো তুলে জনগণের মনটাই তো আসল দিক থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত সচেতনভাবে।
মরে যাওয়ার পর শহীদ উপাধি দিয়ে, পতাকা দিয়ে মুড়ে কী লাভ হল? সে তো আর ফিরে আসবে না। তার পরিবার-ও শোক ভুলে যাবে না। মৃত্যুর পর সম্মান, অসাধারণ একটা পরিকল্পিত কায়দা যাতে জনগণ অভিভূত হয়ে পড়ে।
যারা সত্যিই দেশের সেবা করতে যাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে সমবেদনা জানাই। কারণ, দেশের সেবার জন্য যুদ্ধ, এই কনসেপ্টটা চরম মাত্রার ভুল বোঝানো। দেশ আবার কী? দেশ, মহাদেশ, বিদেশ এই বিভাজনটা মানুষ করেছে। আর সেই ভুল একটা তত্বকে বুকে আগলে রেখে কিছু মানুষ নিজের প্রাণ দিচ্ছে।
সৈনিকদের জন্যই আমরা শান্তিতে রাতে ঘুমাতে পারছি। হক কথা। কিন্তু চাষীদের জন্য আমরা খেতে পাচ্ছি। খাদ্য অবশ্যই শান্তির থেকে গুরুত্বপূর্ন তাই না? কারখানার শ্রমিকদের জন্য পোশাক ও অন্যান্য জিনিস পাচ্ছি। কাজ চলাকালীন ওরা মারা গেলে ওরাও তো শহীদ, তাই না? কই সে বেলা তো কারও উচ্চবাচ্য দেখি না!
বলিউডের সিনেমা-য় বস্তাপচা দেশপ্রেম দেখিয়ে-দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মগজধোলাই-এর প্রত্যক্ষ ফল হল এইসব। নতুন নয়, এই জিনিস আগেও হয়েছে। সারা পৃথিবীতে হয়। যুদ্ধ এবং যোদ্ধাকে গৌরবান্বিত করার স্ট্রাটেজি নিয়ে এ-রকম করা হয়ে থাকে। যুদ্ধ আসলে খুব খারাপ, নিষ্ঠুর, অমানবিক একটা প্রক্রিয়া, যা সুস্থ সমাজের ক্যানসার-স্বরূপ। যারা যুদ্ধ শুরু করে, তারা কিন্তু ক্ষমতালোভী, তাদের কিছু ক্ষতি হয় না যুদ্ধের ফলে। মারা যায় দেশপ্রেমে উত্তেজিত হয়ে রণক্ষেত্রে নামা যোদ্ধারা। উত্তেজিত করাটাও একটা স্কিল।
হ্যাঁ, সৈন্য লাগবেই। আক্রমণের জন্য নয়, আত্মরক্ষার জন্য। নইলে তো যে-কেউ এসে মেরে দিয়ে যাবে। কিন্তু প্রয়োজনকে মহিমার স্থান দেওয়াটা নির্বুদ্ধিতা।
ওরা মেরেছে, আমরা মারব? এটা সমাধান নয়, সঠিক তো নয়ই। শিকড় উপড়াতে হবে এবং তার জন্য প্রয়োজন কূটনৈতিক দক্ষতা। এর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশকে বাধ্য করতে হবে জঙ্গি ঘাঁটিকে নির্মূল করায়। এবং অবশ্যই প্রযোজন বয়কট পদ্ধতি। সবদিক থেকে বয়কট করতে হবে ওই দেশকে। কোনও খেলা হবে না, বাণিজ্য হবে না। যে-দেশ জঙ্গি পুষে আনন্দ পায়, তাদের সঙ্গে খেলা মারানোর দরকার নেই। হ্যাঁ, খেলোয়াড়রা জঙ্গি নয়, কিন্তু খেলা চলাকালীন একটা উগ্র জাতীয়তাবাদ জন্ম নেয় দু-দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে। যা কাম্য নয় কখনোই। খেলা থেকেও ওদের দেশ আয় করে, সেটাও বন্ধ করতে হবে। তাই খেলা বন্ধ। ফুলস্টপ। হাতে নয়, ভাতে মারতে হবে।
।
প্রতিশোধ নেওয়ার আইডিয়াটা বাচ্চাদের মতো। আসলে এই আইডিয়ার পিছনে বুদ্ধি হল, জনগণকে দেশপ্রেমে বুঁদ করে রাখা। ভোটব্যাংক মজবুত করা। গালভরা নাম আবার, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। ঘোড়ার ডিম! কাকে মারছেন আপনি? জঙ্গিদের? ওরা সাধারণ মানুষ। ভুল বুঝিয়ে, জন্নতের লোভ দেখিয়ে ওদের বোড়ে হিসেবে যারা ব্যবহার করছে তাদের ছুঁতে পেরেছেন! যে-দেশ জঙ্গি তৈরি করছে, যে হাই প্রোফাইল লোকজন ঠান্ডা মাথায় এক একটা আক্রমণের রূপরেখা বানাচ্ছে, তাদের চেনেন? কিছু বোকা পাকিস্তানি এসে কিছু ভারতীয়কে মারল। বদলে ভারতের উপরতলার নির্দেশে কিছু ভাড়াটে সৈনিক হামলা করে কিছু পাকিস্তানিকে মেরে এল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
উভয়েই অপরাধী নয়। শহীদ-ও নয়।
অপরাধী তারা, যারা প্ল্যানিং করছে। যারা এতটুকু ঝুঁকি নিচ্ছে না।
এখানে কেউ বীর নয়, কেউ শহীদ নয়। প্রত্যেকে একটা সিস্টেমের অংশ, যে সিস্টেম নিজের ক্ষমতা দেখাতে মাইনে দিয়ে রাখা প্রাণ ব্যবহার করে।
সিস্টেম মানে উপরতলার লোকজন কিন্তু নিরাপদে বসে রইল। এবং জওয়ানদের মৃত্যুর পর ভারী-ভারী শব্দে শোকপ্রকাশ করে নরম বিছানায় গিয়ে ঘুম দিল।
আসল শত্রু জঙ্গিরা নয়, তারাও সাধারণ মানুষ, আসল শত্রু হল তারা, যারা জঙ্গি নির্মাণ করছে। লেলিয়ে দিচ্ছে।
সেই সঙ্গে এটাও সত্যি যে, অন্যান্য পেশাদারদের সঙ্গে ডাক্তার ও সৈন্যদের পার্থক্য রয়েছে। ডাক্তার টাকা পাচ্ছে বটে, কিন্তু তার পরিবর্তে দেওয়া সার্ভিসের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে থাকে অমূল্য একটা জীবন। কিছু ডাক্তার আছেন, যারা রোগীর জীবন বাঁচাতে দাঁতে দাঁত চেপে লড়তে থাকেন। এঁরা শ্রদ্ধার দাবিদার।
আবার ডাক্তার মানেই শ্রদ্ধা করব তা-ও নয়, প্রচুর ডাক্তার রয়েছেন যাদের পূর্বপুরুষ জোঁক। অনেক ডাক্তার আছেন যারা টাকা কামাতে এই ফিল্ডে এসেছেন, সেবাটা কোনও পর্যায়ের প্রাধান্য নয়, ল্যাবের কমিশন খেয়ে-খেয়ে ভুঁড়ির মেদবৃদ্ধি করা যাদের নেশা, এদের জন্যই ভাল মানুষ আচমকা অসুর হয়ে চিকিৎসা কেন্দ্র ভাঙচুর করে।
সৈনিকরা কতজন স্রেফ দেশের সেবা করতে যায় কাকা? 18-19 বছর বয়সে পদাতিক বাহিনীতে যোগ দিতে যাচ্ছে দেশের জন্য লড়ার উদ্দেশ্য নিয়ে? মানি না। শরীর ঠিক থাকলে ওই চাকরিটা খুব সহজে পাওয়া যায়, যা অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর্থিক অবস্থা খারাপ অথবা পড়াশোনা করার মতো মেধা কিংবা মানসিকতা নেই, অথচ শরীরটা তাগড়াই, তারা ঝট করে চাকরি পায়। কারণ এই দিকে প্রতিযোগিতা অনেক কম। সিনেমা দেখে-দেখে সৈন্যদলে যোগ দেওয়াটা দারুণ একটা ব্যাপার বলে মনে হয়ে থাকে। ফাউ মেলে প্রতিবেশীদের সমীহ। সৈন্য হয়ে মাতৃভূমি রক্ষা করব, এটা একটা হাস্যকর কথা, যা যুদ্ধ ব্যবসায়ীরা নিখুঁত কায়দায় মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে।
সৈনিকরা প্রচুর কষ্ট করে এটা সত্যি কথা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পুরো যৌবন কেটে যায়। উপভোগ করার সময় মেলে না। সেই সঙ্গে প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয় তো আছেই। হ্যাঁ, এর জন্য ওদের সহানুভূতি ও সম্মান প্রাপ্য, কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি ঘৃণা প্রাপ্য সরকারি সিস্টেমের, সেই ঘৃণা কিন্তু কেউ করছে না, কারণ দেশপ্রেমের ধুয়ো তুলে জনগণের মনটাই তো আসল দিক থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত সচেতনভাবে।
মরে যাওয়ার পর শহীদ উপাধি দিয়ে, পতাকা দিয়ে মুড়ে কী লাভ হল? সে তো আর ফিরে আসবে না। তার পরিবার-ও শোক ভুলে যাবে না। মৃত্যুর পর সম্মান, অসাধারণ একটা পরিকল্পিত কায়দা যাতে জনগণ অভিভূত হয়ে পড়ে।
যারা সত্যিই দেশের সেবা করতে যাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে সমবেদনা জানাই। কারণ, দেশের সেবার জন্য যুদ্ধ, এই কনসেপ্টটা চরম মাত্রার ভুল বোঝানো। দেশ আবার কী? দেশ, মহাদেশ, বিদেশ এই বিভাজনটা মানুষ করেছে। আর সেই ভুল একটা তত্বকে বুকে আগলে রেখে কিছু মানুষ নিজের প্রাণ দিচ্ছে।
সৈনিকদের জন্যই আমরা শান্তিতে রাতে ঘুমাতে পারছি। হক কথা। কিন্তু চাষীদের জন্য আমরা খেতে পাচ্ছি। খাদ্য অবশ্যই শান্তির থেকে গুরুত্বপূর্ন তাই না? কারখানার শ্রমিকদের জন্য পোশাক ও অন্যান্য জিনিস পাচ্ছি। কাজ চলাকালীন ওরা মারা গেলে ওরাও তো শহীদ, তাই না? কই সে বেলা তো কারও উচ্চবাচ্য দেখি না!
বলিউডের সিনেমা-য় বস্তাপচা দেশপ্রেম দেখিয়ে-দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মগজধোলাই-এর প্রত্যক্ষ ফল হল এইসব। নতুন নয়, এই জিনিস আগেও হয়েছে। সারা পৃথিবীতে হয়। যুদ্ধ এবং যোদ্ধাকে গৌরবান্বিত করার স্ট্রাটেজি নিয়ে এ-রকম করা হয়ে থাকে। যুদ্ধ আসলে খুব খারাপ, নিষ্ঠুর, অমানবিক একটা প্রক্রিয়া, যা সুস্থ সমাজের ক্যানসার-স্বরূপ। যারা যুদ্ধ শুরু করে, তারা কিন্তু ক্ষমতালোভী, তাদের কিছু ক্ষতি হয় না যুদ্ধের ফলে। মারা যায় দেশপ্রেমে উত্তেজিত হয়ে রণক্ষেত্রে নামা যোদ্ধারা। উত্তেজিত করাটাও একটা স্কিল।
হ্যাঁ, সৈন্য লাগবেই। আক্রমণের জন্য নয়, আত্মরক্ষার জন্য। নইলে তো যে-কেউ এসে মেরে দিয়ে যাবে। কিন্তু প্রয়োজনকে মহিমার স্থান দেওয়াটা নির্বুদ্ধিতা।
ওরা মেরেছে, আমরা মারব? এটা সমাধান নয়, সঠিক তো নয়ই। শিকড় উপড়াতে হবে এবং তার জন্য প্রয়োজন কূটনৈতিক দক্ষতা। এর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশকে বাধ্য করতে হবে জঙ্গি ঘাঁটিকে নির্মূল করায়। এবং অবশ্যই প্রযোজন বয়কট পদ্ধতি। সবদিক থেকে বয়কট করতে হবে ওই দেশকে। কোনও খেলা হবে না, বাণিজ্য হবে না। যে-দেশ জঙ্গি পুষে আনন্দ পায়, তাদের সঙ্গে খেলা মারানোর দরকার নেই। হ্যাঁ, খেলোয়াড়রা জঙ্গি নয়, কিন্তু খেলা চলাকালীন একটা উগ্র জাতীয়তাবাদ জন্ম নেয় দু-দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে। যা কাম্য নয় কখনোই। খেলা থেকেও ওদের দেশ আয় করে, সেটাও বন্ধ করতে হবে। তাই খেলা বন্ধ। ফুলস্টপ। হাতে নয়, ভাতে মারতে হবে।
।
প্রতিশোধ নেওয়ার আইডিয়াটা বাচ্চাদের মতো। আসলে এই আইডিয়ার পিছনে বুদ্ধি হল, জনগণকে দেশপ্রেমে বুঁদ করে রাখা। ভোটব্যাংক মজবুত করা। গালভরা নাম আবার, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। ঘোড়ার ডিম! কাকে মারছেন আপনি? জঙ্গিদের? ওরা সাধারণ মানুষ। ভুল বুঝিয়ে, জন্নতের লোভ দেখিয়ে ওদের বোড়ে হিসেবে যারা ব্যবহার করছে তাদের ছুঁতে পেরেছেন! যে-দেশ জঙ্গি তৈরি করছে, যে হাই প্রোফাইল লোকজন ঠান্ডা মাথায় এক একটা আক্রমণের রূপরেখা বানাচ্ছে, তাদের চেনেন? কিছু বোকা পাকিস্তানি এসে কিছু ভারতীয়কে মারল। বদলে ভারতের উপরতলার নির্দেশে কিছু ভাড়াটে সৈনিক হামলা করে কিছু পাকিস্তানিকে মেরে এল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
উভয়েই অপরাধী নয়। শহীদ-ও নয়।
অপরাধী তারা, যারা প্ল্যানিং করছে। যারা এতটুকু ঝুঁকি নিচ্ছে না।
এখানে কেউ বীর নয়, কেউ শহীদ নয়। প্রত্যেকে একটা সিস্টেমের অংশ, যে সিস্টেম নিজের ক্ষমতা দেখাতে মাইনে দিয়ে রাখা প্রাণ ব্যবহার করে।
সিস্টেম মানে উপরতলার লোকজন কিন্তু নিরাপদে বসে রইল। এবং জওয়ানদের মৃত্যুর পর ভারী-ভারী শব্দে শোকপ্রকাশ করে নরম বিছানায় গিয়ে ঘুম দিল।
আসল শত্রু জঙ্গিরা নয়, তারাও সাধারণ মানুষ, আসল শত্রু হল তারা, যারা জঙ্গি নির্মাণ করছে। লেলিয়ে দিচ্ছে।

