Friday, June 12, 2020

ফিজিক্স ইন্টারভিউ

ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে কাকা তন্ময়কে পইপই করে বলে দিয়েছে, "দেখ, এই কলেজ কিন্তু নামজাদা। তোর রেজাল্ট অনুযায়ী ফিজিক্স অনার্সে সুযোগ পাবি না। কিন্তু প্রিন্সিপাল ভদ্রলোককে পটাতে পারলে রাস্তা কিলিয়ার।"

"পটাব কেমন করে?"

কাকা মৃদু হেসে বলেছিল, "সে আমার ছোটবেলার বন্ধু। তবে বন্ধুকৃত্য করতে গিয়ে অযোগ্যকে ভর্তি করবে না। বড্ড সৎ এবং কঠোর। একটাই দুর্বলতা, সেখানেই তোকে আঘাত করতে হবে।"

"কী করব?"

"ইন্টারভিউতে তোকে যাই জিজ্ঞেস করুক না কেন, মাথা খেলিয়ে সেই জবাবের মধ্যে ফিজিক্স এনে ফেলবি। এতেই তিনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। তখন রেজাল্ট-ফেজাল্ট আর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে না।"


.

.

"তোমার নাম?"

"আমার নাম?"

"ঘরে আর কেউ আছে? তোমারই।"

"আজ্ঞে! আমার তো সেইভাবে নাম বলা শক্ত।"

"শক্ত!"

"হ্যাঁ। আসলে, আমি মানে কি আসলে আমিই? আমি কে? অসংখ্য কণার সমষ্টি আমি। মলিকিউল ভাঙলে অনু, তারপর পরমাণু, তারপর কোয়ার্কের দঙ্গল, আর তারপর স্ট্রিং। তাদের প্রত্যেকের ভিন্ন-ভিন্ন নাম রয়েছে। সবাইকে টপকে আলটপকা নিজের একটা নাম দিয়ে ফেলা ভারী পাপ নয় কি?"

"বা-বাড়ি কোথায়?"

"বলব না।"

"বলবে না! কেন?"

"এই যে বলছি না, এই পরিস্থিতিটা ঠিক ডার্ক ম্যাটারের মতো। আপনি জানেন, আমার বাড়ি আছে, কিন্তু তার অবস্থান সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই। ভাবলেই রোমাঞ্চ হয় স্যার। এই রোমাঞ্চ আপনাকে উপহার দিলাম।"

"পড়াশোনা কদ্দুর অবধি চালাতে চাও?"

"নিউটনের গতিসূত্র ফলো করে যদ্দুর এগোনো যায়।"

"নিউটন!"

"আজ্ঞে। প্রথমদিকে তো কোনও বাধা না পেয়ে তেড়েফুঁড়ে দৌড়চ্ছিলাম। তারপরেই এসে পড়ল ঘর্ষণ। টিভি, মোবাইল, ইন্টারনেট, গেম ইত্যাদি চারদিক থেকে সেকি ঘর্ষণ স্যার! ব্যস, আমার গতিবেগ কমতে থাকল। ইদানিং তো থেমেই গেছি। ঘর্ষণের চুলকানি নেশার মতো। ক্ষত হয়, কিন্তু ওতেই আরাম। চুলকে-চুলকে কখনও সখনো বোর হলে ধাক্কা মেরে একটু এগোই। সে আর কহতব্য নয়।"

"বয়স কত?"

"একটা হিন্টস দিই? আপনার আর আমার বয়স একই।।

"ফাজলামো হচ্ছে?"

"না স্যার। ব্যাখ্যা করি শুনুন। বয়স মাপার যে সনাতন প্রথা তাতে মারাত্মক গরমিল। আসলে অরিজিন পয়েন্ট ধরতে হবে বিগ ব্যাং-এর মুহূর্তকে। কারণ, আমাদের চেতনা, দেহের ভর, ইত্যাদির অকৃত্রিম উৎস কিন্তু সেই বিগ ব্যাং। সেখান থেকে আজ অবধি সময় এবং শরীরের ভৌত অবস্থার বয়সের যোগফল। ভাবুন, ওই লম্বা সময় হিসেবে এনে বয়সের আঁক কষতে গেলে, আপনার-আমার ভৌত শরীরের বয়সের যে তফাৎ তা মুখ না কুঁচকেই নিমেষে অগ্রাহ্য করে ফেলা যায়। তবে? তবে হল কিনা দুজনের বয়স সমান?"

"জীবনের লক্ষ্য?"

"স্যার, আমাদের চতুর্দিকে যে পরিমানে এনট্রপির আনাগোনা,এবং প্রতিনিয়ত তা বেড়েই চলেছে, মহাবিশ্ব জুড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখলে নিজের লক্ষ্য ঠিক করা নেহাতই মুর্খামি।"

"চমৎকার।"

"আমি কি তা হলে চান্স পাচ্ছি এখানে?"

"চান্স! মানে সম্ভাবনা! দেখো ছোকরা, সম্ভাবনা এতই কম যে আমি সেটা মুখে উচ্চারণ করতে পারছি না, মানে দশমিকের পর কটা শূন্য আছে গুলিয়ে ফেলব। লিখতেও পারছি না, কারণ অত কাগজ এই তল্লাটে নেই।"

"কেন স্যার? ওকি, আপনি বেত বার করছেন যে!"

"কেন? ভারী জটিল প্রশ্ন। যাইহোক, এই যে বেত দেখছ, এটা বোধহয় স্ট্রেঞ্জ কোয়ার্ক দিয়ে তৈরি। যখন পেটাই, ছাত্ররা অদ্ভুত-অদ্ভুত আওয়াজ করে।"

"আপনার আচরণ বড়োই নিষ্ঠুর। আমি মর্মাহত হলাম। এক্ষুণি চলে যাচ্ছি।"

"হ্যাঁ, যাও। সোজা ব্ল্যাকহোলে গিয়ে ঢুকে পড়ো।"



Sunday, June 7, 2020

পোকামাকড় ও মানবসভ্যতা

প্রস্তুতি সমেত তিনশো একুশ বছর পরে রাস্তায় পা রেখে আমি নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। দেহের তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নামিয়ে এনে ক্রায়োজেনিক চেম্বারে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম দীর্ঘকাল। সপ্তাহখানেক আগে ঘুম থেকে উঠেছি। বিশ্বজুড়ে মহামারী ছড়িয়ে পড়া আরম্ভ হতে স্ব-ইচ্ছায় নিদ্রার পথ বেছে নিয়েছিলাম। 

চারদিকটা পোকামাকড়ে ভর্তি। কেউ আড্ডা দিচ্ছে, কেউ সিগারেট ঠোঁটে লাগিয়ে আগুন জ্বালাবার ফাঁকে একচোট ফেসবুক স্ক্রল করে নেওয়ার জন্য ফোনে আঙ্গুল ও নজর রেখেছে। অনেকেই এলোমেলোভাবে হাসতে-হাসতে ও বকতে-বকতে হাঁটছে। কোথাও মানুষ নেই। এমনটা প্রত্যাশিত হলেও মানতে ইচ্ছা করে না। কতদিন উদাস মানুষ চোখে পড়েনি! কতদিন দেখিনি ভাবনায় মশগুল কিশোরীর স্ফটিক-দৃষ্টি। অন্তঃসারশূন্য প্রযুক্তি মারণ ভাইরাসের থেকেও ধ্বংসাত্মক। ভাইরাস স্রেফ প্রাণ কেড়ে নেয়, কিন্তু ফাঁপা গড়নের প্রযুক্তি বিষ ঢেলে দেয় সমগ্র মানবসভ্যতার সবুজ আত্মায়।


অতীতে পোকামাকড়দের কখনও পাত্তা দিইনি। অগ্রাহ্য করেছি এতটুকু প্রয়াস ছাড়াই, সাবলীল ভঙ্গিতে। কিন্তু বর্তমানের পরিস্থিতি ভিন্ন। আমি সন্তর্পনে হাঁটতে আরম্ভ করলাম। গা বাঁচিয়ে হাঁটছি। কিছু সাবধানতা নেওয়া আছে, তবু সাবধানের মার নেই। টুপি, ফেস-শীল্ড, মুখোশ এবং গ্লাভস আঁটা শরীরসমেত পোকাদের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখছি। ওদের চলনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে হচ্ছে বারংবার। 

জানি না, কতদূর গেলে দ্বিতীয় মানুষের সন্ধান পাব? পার্শ্বস্থ কাউকে জিজ্ঞেস করব না। জিজ্ঞাসার ফলাফল কী হতে পারে, সম্পূর্ণ ধারণা আছে। ওরা জুতোর সাইজের স্মার্টফোন বের করে প্লে স্টোরে মানুষ খোঁজার এপ্লিকেশন সার্চ করবে। পোকাদের আচরণ-ও অত্যন্ত প্রেডিক্টেবল। যেমনটা হয়ে থাকে আরকি, একজনকে রাস্তায় ফেলে গলায় হাঁটু চেপে ধরে দমবন্ধ করে মেরে ফেললে, অনেকেই পালিয়ে যাবে, কেউ চকচকে চোখে অবলোকন করবে, ভয়ে অথবা কৌতূহলে। কৌতূহল শুধুই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নয়, নিরেট বোকামির-ও আতশবাজি। প্রতিবাদ! উহুঁ, ওটা মানুষের ধর্ম, পোকাদের থেকে আশা করা ভারী অন্যায়।

পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা এতই হ্রাস পেয়েছে যে, সমস্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ। প্রয়োজনীয় কৃত্রিম খাদ্যের অভাব ঘটে না। বাড়িতেই সিনথেটিক ফুড তৈরির যন্ত্র আছে। মানুষদের জীবনের একটাই উদ্দেশ্য, দ্বিতীয় কোনও মানুষকে খুঁজে বের করা। দু'জনে একসঙ্গে জীবন কাটানো। দু'জনের লিঙ্গ বিপরীত হওয়াও জরুরি নয়। সাহচর্য-ই যেখানে অতি-দুর্লভ, যৌনতার জ্যাকপট পাওয়া নেহাত-ই কষ্টকল্পনা। কচ্চিৎ সে-সৌভাগ্য হলে, দু'জন এই ইহজীবনেই স্বর্গের স্বাদ পেয়ে যায়।

জানা নেই, কত লম্বা পথ পড়ে রয়েছে আমি ও আমার গন্তব্যের মাঝখানে। জানি না, জীবদ্দশায় সেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারব কিনা। বিষাদ ও প্রেরণা দুই-ই আগলে রেখেছে আমায়। 

তাকালাম চতুর্দিকের উচ্ছল, খুশিতে টইটুম্বুর পোকামাকড়দের দিকে। যদি হতে পারতাম ওদের মতো, হয়ত ভাল থাকতাম। কিন্তু মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা, সে যতই বন্ধুর হোক না কেন, কোনও কিছুর জন্যই ত্যাগ করা যায় না। ত্যাগ করতে পারে না আদম-ইভের প্রকৃত প্রতিনিধিরা।

পোকাদের মধ্য দিয়ে, জেদি এক সৈনিকের মতো, আমি হেঁটে চললাম। 

Friday, June 5, 2020

ফ্রেন্ডস: পাশে থেকো

FRIENDS ( 1994-2004)

.

"আমি তোমার পাশে থাকব।

যেমনটা সবসময় ছিলাম।

কারণ দরকারের মুহূর্তে তুমি আমার পাশে ছিলে।"

.

নিঃস্বার্থ ভালবাসা না পাওয়া মানুষ, আসলে এই মানবজনমের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, মধুর সম্পদের ছোঁয়া পায় না। জিনিয়াস, কাও তোয়াক্কা না করা মানুষটাও কিন্তু প্রকৃত স্নেহ পেলে তার যাবতীয় সব কিছু বিলিয়ে দিতে পারে। 

রাচেল উড়নচন্ডী-টাইপ এক মেয়ে। নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করতে গিয়েও বিয়ের আসর থেকেই সে পালিয়ে আসে। হতে চায় ফ্যাশন ডিজাইনার কিন্তু উপায় নেই। খরচ চালাতে কফিশপে বেয়ারার কাজ নেয়।

রস একজন প্যালিয়েন্টলজিস্ট, বা প্রাগৈতিহাসিক জিনিসের বিশেষজ্ঞ। সদ্য ডিভোর্স হয়েছে। কারণ তার স্ত্রী অনুধাবন করতে পেরেছে যে সে লেসবিয়ান। 

ফিবি একটু পাগলাটে, খামখেয়ালি ধরণের মেয়ে। তার পেশা ম্যাসাজ করা। আবার গান গায়, গিটার বাজায়।

জোয়ি এক প্লে-বয় টাইপ।  হতে চায় অভিনেতা। কিন্তু কোনও মাঝারি মাপের সুযোগ-ও পাচ্ছে না। অতি সামান্য, টুকটাক রোল করেই তাকে খুশি থাকতে হচ্ছে।

মনিকা রসের বোন। রান্না করতে, খাওয়াতে ভালবাসে। ঘর পরিষ্কার রাখতে চায়। ঘরের কিছু ভাঙলে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। অফিসে কাজ করে কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট নয়।

চ্যান্ডলার কাজ করে আকাউন্টেন্সিতে। অপ্রতিভ অবস্থার সম্মুখীন হলে সে জোক বলে।

ঠিক এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই ছয় জন যুবক-যুবতীর যে গল্প আরম্ভ হয় সেটাই কালোত্তীর্ণ, বহুবিখ্যাত ফ্রেন্ডস। এদের জীবনের সমস্যা, টানাপোড়েন, ওঠানামা, নিজেদের মধ্যেকার অম্লমধুর ঝগড়া, পারস্পরিক বন্ধুত্ব নিয়ে গড়ে উঠেছে চির-নতুন এই সিরিয়াল। 

একদিকে রাচেল, যে নিজে কী করছে, কেন করছে কিছুই বোঝে না, কোনও প্ল্যানিং নেই। বিয়ে ছেড়ে, বাড়ি ছেড়ে চলে এলেও শপিং করছে বাবার ক্রেডিট কার্ড দিয়ে। একের পর এক সিরিয়াস সম্পর্কে জড়ায়, আবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। অন্যদিকে জোয়ি, যার সম্পর্ক তৈরির কোনও আগ্রহই নেই। নিত্যনতুন মেয়ের সঙ্গে একরাত কাটিয়ে তারপর তাকে সম্পূর্ন অগ্রাহ্য করাই তার স্বভাব।

এদের মধ্যে আঁতেল হল রস। যা কেউ জানে না, তা রস জানে। দরকার পড়লে জ্ঞান দিতে সে সর্বদা প্রস্তুত। ডিভোর্স নিয়ে মনখারাপ, কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ আছে। স্ত্রী আসন্ন-প্রসবা। রাচেলকে আবার সে স্কুলজীবন থেকে ভীষন পছন্দ করে, কিন্তু কখনোই বলতে পারেনি। সেই স্কুলের ক্রাশ যখন তার বোনের সঙ্গে একই বাড়িতে ঘর শেয়ার করে থাকতে শুরু করল, তখন..

চ্যান্ডলার প্রেম করতে খুবই ইচ্ছুক, কিন্তু প্রেমিকা জোটে না। রসদের এপার্টমেন্টের উল্টোদিকের এপার্টমেন্ট-এ একই বিল্ডিং-এ থাকে চ্যান্ডলার আর জোয়ি। চ্যান্ডলার আর্থিক দিক দিয়ে যতটা স্বচ্ছল, জোয়ি ততটাই সমস্যায়। কিন্তু তাদের বন্ধুত্ব অকলুষিত। 

এই ছয়জনের সম্পর্কের গল্প বহু মোড় নেয়, স্বতঃস্ফূর্ত হাস্যরস ছড়াতে-ছড়াতে এগোতে থাকে তাদের জীবন। এদের মধ্যে কেউ ভগবান নয়, কেউ জিনিয়াস নয়। প্রত্যেকে সাধারণ। প্রত্যেকেই মিশুকে, খোলামেলা। হয়ত কেউ বেশি সফল, কেউ ব্যর্থ। একজন বিপদে পড়লে অন্যজন হাত বাড়িয়ে দেয়। মন-কষাকষি হলেও কেউ কারও শত্রুতে পরিণত হয় না। রেগে থাকলেও সাহায্যে ছুটে আসতে দ্বিধা করে না। 

প্রত্যেকের জীবন-দর্শন বদলাতে থাকে বয়স বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে, ঠিক যেমনটা হয়ে থাকে আমাদের ক্ষেত্রেও। আমেরিকান কালচারের সঙ্গে একাত্মবোধ করায় সমস্যা হলেও তাদের জীবনের সমস্যা, পতন, আনন্দ, কষ্টের সঙ্গে আমরা নিজেদের জীবনকে মেলাতে পারি। কখনও হয়ত ঈর্ষাও করে ফেলি ঠিক ঐরকম বন্ধুদের সাহচর্যে আসতে না পারার আক্ষেপে। ফ্রেন্ডস ঠাঁই করে নেয় হৃদয়ের একদম গভীরের কোনও ফেভিকলের কারখানায়। চাইলেও সেই কাল্পনিক চরিত্রদের মুছে দেওয়া যায় না, মুছতে গেলে যেন আত্মার খানিকটাও উপড়ে যাবে। 

এই অপেরা যেমন দিনের পর দিন ধরে হাসিয়ে যাবে, আবার ক্ষুদ্র সময়ের জন্য টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনবে অশ্রু। কিন্তু সেই বেদনা-ও উপভোগ্য। সেই বিষাদের জন্যই আরও নিখুঁত, আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে তারা। ওই ছয়জন ধাক্কাধাক্কি না করেই পেয়ে যায় আমাদের মনের চাবিকাঠি। 

দীর্ঘ দশ বছর ধরে চলা এই সিরিয়ালকে এপিক, লেজেন্ডারী, আইকনিক ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত করা হয়ে থাকে। এর আবেদন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, ডিপ্রেশনে আক্রান্ত রোগীকে ডাক্তার ওষুধের সঙ্গে পরামর্শ দেয় ফ্রেন্ডস দেখার। 

ফ্রেন্ডস আসলে মানুষের পাশে থাকার গল্প। প্রিয়জনের ভাল-র জন্য নিজের ত্যাগস্বীকারের গল্প। চারদিকের এই স্বার্থপর সম্পর্কদের মাঝে বাঁচতে-বাঁচতে দম আটকে গেলে, ফ্রেন্ডস যোগান দেয় বিশুদ্ধ অক্সিজেনের। সে এক ইউটোপিয়া হলেও দেখলে,  ইচ্ছা হয় ভালবাসতে। ভুল বুঝে শেষ করে দেওয়া সম্পর্ক নিজের দায়িত্বে পুনরুত্থান করার উদ্যম ফিরে আসে। ক্ষমা চাইতে গেলে নিজেকে আর ছোট মনে হয় না। 

ফ্রেন্ডস আসলে মানবিকতার এক চিরন্তন আখ্যান। 

এই সেই কালোত্তীর্ণ থিম সং। এই গানের ভিডিও শুট করা হয়েছিল একদম ভোরবেলা। ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যে জল আরোই ঠান্ডা। তার মধ্যেই শুট করা হয়। দাঁতে দাঁত ঠোকাঠুকি লেগে গেলেও তাদের মুখে সেই ছাপ নেই তিলমাত্র। একজন পরে বলে, "আমাদের মনে হচ্ছিল যেন, আমরা দীর্ঘ কোনও যাত্রা শুরু করতে চলেছি।"

হ্যাঁ, সত্যিই তো তাই। 

So no one told you life was gonna be this way

Your job's a joke, you're broke

Your love life's D.O.A

It's like you're always stuck in second gear

When it hasn't been your day, your week, your month

Or even your year, but

I'll be there for you

(When the rain starts to pour)

I'll be there for you

(Like I've been there before)

I'll be there for you

('Cause you're there for me too)

You're still in bed at ten

And work began at eight

You've burned your breakfast, so far

Things are going great

Your mother warned you there'd be days like these

But she didn't tell you when the world has brought

You down to your knees and

I'll be there for you

(When the rain starts to pour)

I'll be there for you

(Like I've been there before)

I'll be there for you

('Cause you're there for me too)

No one could ever know me

No one could ever see me

Seems you're the only one who knows

What it's like to be me

Someone to face the day with

Make it through all the rest with

Someone I'll always laugh with

Even at my worst, I'm best with you, yeah

It's like you're always stuck in second gear

When it hasn't been your day, your week, your month

Or even your year

I'll be there for you

(When the rain starts to pour)

I'll be there for you

(Like I've been there before)

I'll be there for you

('Cause you're there for me too)

I'll be there for you

I'll be there for you

I'll be there for you

('Cause you're there for me too)

ফ্রেন্ডসের প্রথম এপিসোডের শুরুর কিছুটা অংশ বাংলায় ডাব করেছিলাম, স্বয়ং। দেওয়া রইল তার লিংক,

বাংলায় ফ্রেন্ডস