Friday, November 30, 2018

কমিকস এবং স্ট্যান লি

মূল ব্যাপারটা কখনই কমিকস নয়,  বরং ভাল গল্প। হ্যাঁ, রংবেরঙের ছবি নি:সন্দেহে সব রুচির মানুষকে চট করে আকর্ষণ করতে পারে। তবে গল্প ভাল না হলে, সেই আকর্ষণ অচিরে ধুলোয় মিলায়। স্ট্যান লি-কৃত মার্ভেল ইউনিভার্সের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণ কিন্তু ওই নিখুঁত একটা গল্প। আর নিখুঁত গল্পে নিখুঁত মানুষ থাকে না। অতিমানব-রাও ভুল ত্রুটির শিকার হয়, সে-কারণে-ই তারা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে।
গল্প জরুরি, তার থেকে-ও আগে চাই উদ্ভাবনী শক্তি।  এ এক শক্তি, যা হাজার চেষ্টা করে-ও অর্জন করা যায় না।
কেউ আবার অসাধারণ গল্প ভাবতে পারে, কিন্তু ঠিকঠাকভাবে সেটা লিখে ফেলা আবার অন্য রকমের স্কিল। লেখার দক্ষতা না থাকলে চাপ। সে-ক্ষেত্রে কমিকস তৈরি সুবিধা। কমিকস সাহিত্য নয়। যা ভাষায় প্রকাশ করতে গেলে স্রেফ ছড়িয়ে ফেলার সম্ভাবনা, ছবির সাহায্যে অবশ্যই তা  একটা ভাল কমিকস-এ রূপ দেওয়া যায়।
অবশ্য একদল লোকের মতে, যারা গল্প-ও পারে না, ছবি-ও আঁকতে পারে না, তারা-ই কমিকস-এর দিকে ঝোঁকে। কথাটা সত্যি কিছু ক্ষেত্রে, কিন্তু ধ্রুবসত্য নয়।
কমিকস-এর দুনিয়া থেকে-ই বর্তমানে উঠে এসে বিশ্বব্যাপী উন্মাদনা তৈরি করা চরিত্রদের ভিড়ে সমৃদ্ধ মার্ভেল ইউনিভার্স। এর কৃতিত্ব স্ট্যান লি-র।  ডিসি কমিকসের সুপারম্যান, ওয়ান্ডার উওম্যান, ব্যাটম্যান-এর মতো ভয়ঙ্কর বিখ্যাত চরিত্রদের দশগোলে হারিয়ে দেওয়া মুখের কথা নয়।
রইল স্ট্যান লি সম্পর্কিত কিছু বাংলা প্রতিবেদনের লিঙ্ক।
1)  https://www.anandabazar.com/supplementary/anandaplus/marvel-comics-real-life-superhero-stan-lee-dies-1.897412?ref=%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B2%E0%A6%BF-topics-topic-stry

2) https://intellectito.wordpress.com/2017/03/29/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8-%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8/

3) https://www.bbc.com/bengali/news-46190430

4) https://m.prothomalo.com/entertainment/article/1565282/%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%9A%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B2%E0%A6%BF

Saturday, November 10, 2018

তেলের গল্প

শ্রদ্ধেয় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়-কে একবার অনুরোধ করা হয়েছিল, আনন্দমেলার গল্প বিভাগের সম্পাদক হওয়ার জন্য। তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল খানিকটা এ-রকম,
"এই রে! তা হলে তো আমার বাজারের ব্যাগ বইতে লোকজন হন্যে হয়ে ঘুরবে।"
হ্যাঁ। সেই সময়ে তেল দেওয়ার মোক্ষম উপায় ছিল, জনৈক লেখকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে 'টান' দেখিয়ে তার টুকটাক ফাইফরমাস খাটা। সময়-অসময়ে কাছা-খোলা স্তুতি হরদম চলত-ই। উদ্দেশ্য কী? আরে, লেখকের নেকনজরে আসার সুবিধা কম? প্রথিতযশা লেখক কিঞ্চিৎ হাত ঝাড়লেই তো নামী কাগজে লেখা বেরোনোর সম্ভাবনা সেই তেল-শ্রমিকের।
ফেসবুকের জন্ম হওয়ার পর শিল্পটা বেশ সহজ রূপ নিল। পিৎজা আর লিমকার ঢেকুর চেপে কোষ্ঠকাঠিন্যের স্টাইলে প্রশংসা বের করা এখন লিকুইড জল-ভাত। বন্ধু সার্কেলে গালাগালি দিতে-দিতে টাইপ করে মধু-বাক্য আউড়ানো ভার্সেটাইল শয়তানের সিগনেচার। প্রখ্যাত স্পষ্টবাদী সাহিত্যিক সৌরভ মুখোপাধ্যায় তাঁর একটি গল্পে এই 'লেখকের তোষামোদ করে লেখক হওয়া' কনসেপ্টটা দেখিয়েছেন মজার ছলে।
লেখকের চরম খাঁজা পোস্টেও অম্লানবদনে 'মন ছুঁয়ে গেল', 'বাকরুদ্ধ', 'চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এল' ইত্যাদি কমেন্ট দেওয়ায় এরা দক্ষ। মাইরি, খারাপ লেখার অতি খারাপ জায়গাগুলো তুলে-তুলে প্রশংসা করার জন্য ভিনগ্রহী লেভেলের প্রতিভা ও অধ্যবসায় লাগে।
শক্তপোক্ত ভিত-ওয়ালা লেখকের এসব স্তুতিবাক্যে কাঠামো টলার নয়। যারা লেখার তাগিদে লেখেন, তারা জানেন, তাদের কোন সৃষ্টি ঠিক কতটা ভাল।
গন্ডগোল হয়, বিখ্যাত হবার জন্য লিখতে আসা লেখকদের ক্ষেত্রে। চাটুকার-দের পাল্লায় পড়ে তাদের লেখনীর ধার(!) কমতে-কমতে তরোয়ালের উল্টোপিঠে পরিণত হয়।

'চাটাচাটি' করে উপরে ওঠা যায়। সম্মান-ও হাতানো যায় কদাচিৎ। পকেট গরম হতে-হতে এমন অবস্থা এসে দাঁড়ায় যে, ঠান্ডা চা পকেটে ঢুকিয়ে উষ্ণ করে নেওয়ার সুপার পাওয়ার চলে আসে। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়ালে পায়ে জোর পাওয়া যায় না।
চাটুকারগণ নির্বংশ হও।