শ্রদ্ধেয় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়-কে একবার অনুরোধ করা হয়েছিল, আনন্দমেলার গল্প বিভাগের সম্পাদক হওয়ার জন্য। তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল খানিকটা এ-রকম,
"এই রে! তা হলে তো আমার বাজারের ব্যাগ বইতে লোকজন হন্যে হয়ে ঘুরবে।"
হ্যাঁ। সেই সময়ে তেল দেওয়ার মোক্ষম উপায় ছিল, জনৈক লেখকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে 'টান' দেখিয়ে তার টুকটাক ফাইফরমাস খাটা। সময়-অসময়ে কাছা-খোলা স্তুতি হরদম চলত-ই। উদ্দেশ্য কী? আরে, লেখকের নেকনজরে আসার সুবিধা কম? প্রথিতযশা লেখক কিঞ্চিৎ হাত ঝাড়লেই তো নামী কাগজে লেখা বেরোনোর সম্ভাবনা সেই তেল-শ্রমিকের।
ফেসবুকের জন্ম হওয়ার পর শিল্পটা বেশ সহজ রূপ নিল। পিৎজা আর লিমকার ঢেকুর চেপে কোষ্ঠকাঠিন্যের স্টাইলে প্রশংসা বের করা এখন লিকুইড জল-ভাত। বন্ধু সার্কেলে গালাগালি দিতে-দিতে টাইপ করে মধু-বাক্য আউড়ানো ভার্সেটাইল শয়তানের সিগনেচার। প্রখ্যাত স্পষ্টবাদী সাহিত্যিক সৌরভ মুখোপাধ্যায় তাঁর একটি গল্পে এই 'লেখকের তোষামোদ করে লেখক হওয়া' কনসেপ্টটা দেখিয়েছেন মজার ছলে।
লেখকের চরম খাঁজা পোস্টেও অম্লানবদনে 'মন ছুঁয়ে গেল', 'বাকরুদ্ধ', 'চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এল' ইত্যাদি কমেন্ট দেওয়ায় এরা দক্ষ। মাইরি, খারাপ লেখার অতি খারাপ জায়গাগুলো তুলে-তুলে প্রশংসা করার জন্য ভিনগ্রহী লেভেলের প্রতিভা ও অধ্যবসায় লাগে।
শক্তপোক্ত ভিত-ওয়ালা লেখকের এসব স্তুতিবাক্যে কাঠামো টলার নয়। যারা লেখার তাগিদে লেখেন, তারা জানেন, তাদের কোন সৃষ্টি ঠিক কতটা ভাল।
গন্ডগোল হয়, বিখ্যাত হবার জন্য লিখতে আসা লেখকদের ক্ষেত্রে। চাটুকার-দের পাল্লায় পড়ে তাদের লেখনীর ধার(!) কমতে-কমতে তরোয়ালের উল্টোপিঠে পরিণত হয়।
।
'চাটাচাটি' করে উপরে ওঠা যায়। সম্মান-ও হাতানো যায় কদাচিৎ। পকেট গরম হতে-হতে এমন অবস্থা এসে দাঁড়ায় যে, ঠান্ডা চা পকেটে ঢুকিয়ে উষ্ণ করে নেওয়ার সুপার পাওয়ার চলে আসে। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়ালে পায়ে জোর পাওয়া যায় না।
চাটুকারগণ নির্বংশ হও।
"এই রে! তা হলে তো আমার বাজারের ব্যাগ বইতে লোকজন হন্যে হয়ে ঘুরবে।"
হ্যাঁ। সেই সময়ে তেল দেওয়ার মোক্ষম উপায় ছিল, জনৈক লেখকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে 'টান' দেখিয়ে তার টুকটাক ফাইফরমাস খাটা। সময়-অসময়ে কাছা-খোলা স্তুতি হরদম চলত-ই। উদ্দেশ্য কী? আরে, লেখকের নেকনজরে আসার সুবিধা কম? প্রথিতযশা লেখক কিঞ্চিৎ হাত ঝাড়লেই তো নামী কাগজে লেখা বেরোনোর সম্ভাবনা সেই তেল-শ্রমিকের।
ফেসবুকের জন্ম হওয়ার পর শিল্পটা বেশ সহজ রূপ নিল। পিৎজা আর লিমকার ঢেকুর চেপে কোষ্ঠকাঠিন্যের স্টাইলে প্রশংসা বের করা এখন লিকুইড জল-ভাত। বন্ধু সার্কেলে গালাগালি দিতে-দিতে টাইপ করে মধু-বাক্য আউড়ানো ভার্সেটাইল শয়তানের সিগনেচার। প্রখ্যাত স্পষ্টবাদী সাহিত্যিক সৌরভ মুখোপাধ্যায় তাঁর একটি গল্পে এই 'লেখকের তোষামোদ করে লেখক হওয়া' কনসেপ্টটা দেখিয়েছেন মজার ছলে।
লেখকের চরম খাঁজা পোস্টেও অম্লানবদনে 'মন ছুঁয়ে গেল', 'বাকরুদ্ধ', 'চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এল' ইত্যাদি কমেন্ট দেওয়ায় এরা দক্ষ। মাইরি, খারাপ লেখার অতি খারাপ জায়গাগুলো তুলে-তুলে প্রশংসা করার জন্য ভিনগ্রহী লেভেলের প্রতিভা ও অধ্যবসায় লাগে।
শক্তপোক্ত ভিত-ওয়ালা লেখকের এসব স্তুতিবাক্যে কাঠামো টলার নয়। যারা লেখার তাগিদে লেখেন, তারা জানেন, তাদের কোন সৃষ্টি ঠিক কতটা ভাল।
গন্ডগোল হয়, বিখ্যাত হবার জন্য লিখতে আসা লেখকদের ক্ষেত্রে। চাটুকার-দের পাল্লায় পড়ে তাদের লেখনীর ধার(!) কমতে-কমতে তরোয়ালের উল্টোপিঠে পরিণত হয়।
।
'চাটাচাটি' করে উপরে ওঠা যায়। সম্মান-ও হাতানো যায় কদাচিৎ। পকেট গরম হতে-হতে এমন অবস্থা এসে দাঁড়ায় যে, ঠান্ডা চা পকেটে ঢুকিয়ে উষ্ণ করে নেওয়ার সুপার পাওয়ার চলে আসে। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়ালে পায়ে জোর পাওয়া যায় না।
চাটুকারগণ নির্বংশ হও।

No comments:
Post a Comment