ভয় এমন এক অনুভূতি যা যুক্তিবোধকে অনায়াসে ড্রিবল করে হৃৎপিণ্ডে গেঁথে দিতে পারে স্যাঁতসেঁতে, ঠান্ডা অন্ধকার রঙের ছুরি। ভয় এক প্রাগৈতিহাসিক অনুভূতি যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে টিকে থাকতে, প্রতিবাদ করতে, গর্জে উঠতে, কখনও বা দুদ্দাড় দৌড়ে পালিয়ে জীবন বাঁচানোর ইন্ধন জুগিয়েছে। জীবন! হ্যাঁ, জীবনই ভয়ের লক্ষ্যবস্তু, গোলপোস্ট, উইকেট। সবেধন নীলমণি এই জীবনের প্রতি মায়া না থাকলে ভয়ের দাঁত কামড় বসাতে এলেও ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ে।
।
সবথেকে মারাত্মক ভয় হল জীবন-কেন্দ্রিক। তারপর আসে টাকা-পয়সা বা সম্পদ হারানোর ভয়, তারপর যশ, তারপর টুকিটাকি জিনিস। কিন্তু ভয়ের উৎস সবসময় বাহ্যিক হয় না, কখনও-কখনও তা উৎসারিত হয় মনের গহীন থেকেও।
লালচে-কালো রক্তাক্ত রঙের এক রাত্রি। সেখানে একটা বাস দাঁড়িয়ে আছে। সেই বাসের যাত্রীরা সবাই ভয়ের মুখোমুখি হয়েছে। ভীষণ এক ভয়। তাদের আখ্যানে ভর দিয়েই চালক চালাতে শুরু করল সেই বাস।
।
ব্লাডরাইডে আপনাদের স্বাগত।
।
শহর থেকে মফস্বলে এসেছে এক পরিবার। স্বামী, স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে আর এক কুকুর। টাকার অভাবে শহরে বসবাস মুশকিল হয়ে পড়েছিল। দেখল, এখানকার প্রতিবেশীরা প্রত্যেকে কিছু না কিছু পুষছে। কুকুর, বিড়াল, ছাগল ইত্যাদি। আর সেই পোষ্যকে তারা খুবই আদর করে। খুব যত্ন করে। ব্যাপারটা স্বাভাবিক ঠেকল না ওই পরিবারের গৃহবধূর। সারাক্ষণ নিজেদের পোষা প্রাণীর গায়ে তারা হাত বোলাচ্ছে। এমন কেন? কী রহস্য আছে এর পিছনে?
।
খুব সুন্দর সংসার এক নারীর। স্বামীর বাড়ির সবাই তাকে খুব ভালবাসে। সে 'রাইটিং ক্লাস'এ যায় লেখা শিখতে। সেখান থেকে ফিরে একদিন আচমকা সে আড়াল থেকে শুনতে পায় যে বাড়ির সবাই তার উপর ক্রুদ্ধ। তার নামে গালাগালি দিচ্ছে। আকাশ ভেঙে পড়ে তার মাথার উপর। আড়াল থেকেই সে শুনতে পায়, ওরা প্ল্যান করছে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার অছিলায় তাকে খুন করার। সে পালায়। সবাই তাড়া করে তাকে। কেন হল আচমকা এমনটা? 'রাইটিং ক্লাসের' সঙ্গে সম্পর্কটা খুঁজে পেয়ে সেও পাল্টা উপায় অবলম্বন করবে প্রত্যাঘাতের। কিন্তু প্রকৃত গন্ডগোল অনেক গভীরে।
।
নতুন স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দিয়েছে এক তরুণী। বাচ্চাদের স্কুল। স্কুলের ছুটি হওয়ার পর সে শুনতে পেতে থাকে ক্ষীণ স্বরের বাচ্চার কান্নার শব্দ। কিন্তু কেউ কোথাও নেই। স্কুলে একদিন তার মুখোমুখি হয়ে পড়ে এক বৃদ্ধ কেয়ারটেকার, যে কিনা অনেক আগেই অবসরপ্রাপ্ত। সে কী করতে এসেছে এই স্কুলে? ক্রমশ গিঁট খুলতে থাকে, আবার পাকিয়েও যায়। একদিন ক্লাস শেষে পিছন দিক থেকে খসখস আওয়াজ শুনে সে পিছন ফিরে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে দেখতে পায় এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। বোর্ডে অদৃশ্য কোনও হাত চক দিয়ে লিখছে, "আমাদের সাহায্য করো।"
।
বড় কোনও গবেষণাগত সাফল্যের পর কোম্পানির মালিক ঘরোয়াভাবে উদযাপন করছে। মাত্র পাঁচজন আমন্ত্রিত, প্রত্যেকে ঘনিষ্ঠ মানুষ ও তার কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মী। আর আছে তার বউ। একজন বিজ্ঞানী-ও আছে, এই আবিষ্কারের পিছনে যার ভূমিকা বৃহৎ। একসময় একজন তার অবিষ্কারটা দেখতে চাইল। মালিক ভল্ট খুলে দেখল সেটা উধাও। মালিক স্তম্ভিত। কে নিয়েছে? মালিকের সহযোগী জানাল, এই ছ' জন ছাড়া কেউ ঢোকেনি এর মধ্যে। এদের-ই কেউ ভল্টের কোড জেনে চুরি করেছে। কে? মালিক আর তার সহযোগী চোর না ধরে ছাড়বে না, যা-ই ঘটুক না কেন। নিখুঁত নিরাপত্তার এই বাড়ি থেকে চুরি করে কেউ বেরতে পারবে না। সবার শরীর তল্লাশি করে কিছু মিলল না। এবার কী পদক্ষেপ নেবে মালিক? ভয়াবহ কিছু।
।
তিন বছর পর পাগলা-গারদ থেকে ছাড়া পেয়েছে এক যুবক। মা তাকে বাড়ি নিয়ে এল। বলল, নিজের মতো থাকতে, যেন বাইরে না বেরয়। মা কাজে চলে গেল। তারপরই এল তার দুই ভাই। বের করে নিয়ে গেল তাকে পটিয়ে। ঘুরতে যাচ্ছে তারা তাদের বাবার বাড়িতে। পথে অনেক স্ন্যাকস কেনা হল। একটি মেয়ে লিফট চাওয়ায় তাকে লিফট দেওয়া হল। তাড়া না থাকায় মেয়েটিও তাদের সঙ্গে গেল সেই বাড়িতে। সাইকোলজির ছাত্রী সেই যুবতী কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হল সেখানে? যুবক কী কারণে পাগলা-গারদে আটকা ছিল তিন বছর?
।
অফিসের তরফ থেকে শুধুমাত্র কর্মীদের জন্য আয়োজিত এক কস্টিউম পার্টি। যে যা ইচ্ছা সেজে গেছে। হাতি, ঘোড়া, ইঁদুর ইত্যাদি। ক্রমশ জানা গেল, মার্থা নামে এক কর্মী কয়েক মাস আগে অফিসে দোতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু সবাই যেন চাপা দিতে চাইছে প্রসঙ্গটা। অফিসে নতুন যোগ দেওয়া দুই তরুণ-তরুণীর সন্দেহ হয়। রেলিং দেওয়া বারান্দা থেকে কেউ পড়ে যাবে কেমন করে? পার্টির মধ্যেই নিজেদের মতো করে তদন্ত আরম্ভ করে তারা। আর কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসে। কিন্তু আসল ভয় সেই সাপ থেকে নয়…
।
চমকপ্রদ এক এনথলজি। ছটা ভিন্ন ভিন্ন কাহিনী নিয়ে নেটফ্লিক্সের এই ছটা এপিসোডের হরর সিরিজ। এই নির্মাণ আবার মনে করিয়ে দিল যে, হরর মানেই স্রেফ ভূত নয়।

No comments:
Post a Comment