ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে কাকা তন্ময়কে পইপই করে বলে দিয়েছে, "দেখ, এই কলেজ কিন্তু নামজাদা। তোর রেজাল্ট অনুযায়ী ফিজিক্স অনার্সে সুযোগ পাবি না। কিন্তু প্রিন্সিপাল ভদ্রলোককে পটাতে পারলে রাস্তা কিলিয়ার।"
"পটাব কেমন করে?"
কাকা মৃদু হেসে বলেছিল, "সে আমার ছোটবেলার বন্ধু। তবে বন্ধুকৃত্য করতে গিয়ে অযোগ্যকে ভর্তি করবে না। বড্ড সৎ এবং কঠোর। একটাই দুর্বলতা, সেখানেই তোকে আঘাত করতে হবে।"
"কী করব?"
"ইন্টারভিউতে তোকে যাই জিজ্ঞেস করুক না কেন, মাথা খেলিয়ে সেই জবাবের মধ্যে ফিজিক্স এনে ফেলবি। এতেই তিনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। তখন রেজাল্ট-ফেজাল্ট আর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে না।"
.
.
"তোমার নাম?"
"আমার নাম?"
"ঘরে আর কেউ আছে? তোমারই।"
"আজ্ঞে! আমার তো সেইভাবে নাম বলা শক্ত।"
"শক্ত!"
"হ্যাঁ। আসলে, আমি মানে কি আসলে আমিই? আমি কে? অসংখ্য কণার সমষ্টি আমি। মলিকিউল ভাঙলে অনু, তারপর পরমাণু, তারপর কোয়ার্কের দঙ্গল, আর তারপর স্ট্রিং। তাদের প্রত্যেকের ভিন্ন-ভিন্ন নাম রয়েছে। সবাইকে টপকে আলটপকা নিজের একটা নাম দিয়ে ফেলা ভারী পাপ নয় কি?"
"বা-বাড়ি কোথায়?"
"বলব না।"
"বলবে না! কেন?"
"এই যে বলছি না, এই পরিস্থিতিটা ঠিক ডার্ক ম্যাটারের মতো। আপনি জানেন, আমার বাড়ি আছে, কিন্তু তার অবস্থান সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই। ভাবলেই রোমাঞ্চ হয় স্যার। এই রোমাঞ্চ আপনাকে উপহার দিলাম।"
"পড়াশোনা কদ্দুর অবধি চালাতে চাও?"
"নিউটনের গতিসূত্র ফলো করে যদ্দুর এগোনো যায়।"
"নিউটন!"
"আজ্ঞে। প্রথমদিকে তো কোনও বাধা না পেয়ে তেড়েফুঁড়ে দৌড়চ্ছিলাম। তারপরেই এসে পড়ল ঘর্ষণ। টিভি, মোবাইল, ইন্টারনেট, গেম ইত্যাদি চারদিক থেকে সেকি ঘর্ষণ স্যার! ব্যস, আমার গতিবেগ কমতে থাকল। ইদানিং তো থেমেই গেছি। ঘর্ষণের চুলকানি নেশার মতো। ক্ষত হয়, কিন্তু ওতেই আরাম। চুলকে-চুলকে কখনও সখনো বোর হলে ধাক্কা মেরে একটু এগোই। সে আর কহতব্য নয়।"
"বয়স কত?"
"একটা হিন্টস দিই? আপনার আর আমার বয়স একই।।
"ফাজলামো হচ্ছে?"
"না স্যার। ব্যাখ্যা করি শুনুন। বয়স মাপার যে সনাতন প্রথা তাতে মারাত্মক গরমিল। আসলে অরিজিন পয়েন্ট ধরতে হবে বিগ ব্যাং-এর মুহূর্তকে। কারণ, আমাদের চেতনা, দেহের ভর, ইত্যাদির অকৃত্রিম উৎস কিন্তু সেই বিগ ব্যাং। সেখান থেকে আজ অবধি সময় এবং শরীরের ভৌত অবস্থার বয়সের যোগফল। ভাবুন, ওই লম্বা সময় হিসেবে এনে বয়সের আঁক কষতে গেলে, আপনার-আমার ভৌত শরীরের বয়সের যে তফাৎ তা মুখ না কুঁচকেই নিমেষে অগ্রাহ্য করে ফেলা যায়। তবে? তবে হল কিনা দুজনের বয়স সমান?"
"জীবনের লক্ষ্য?"
"স্যার, আমাদের চতুর্দিকে যে পরিমানে এনট্রপির আনাগোনা,এবং প্রতিনিয়ত তা বেড়েই চলেছে, মহাবিশ্ব জুড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখলে নিজের লক্ষ্য ঠিক করা নেহাতই মুর্খামি।"
"চমৎকার।"
"আমি কি তা হলে চান্স পাচ্ছি এখানে?"
"চান্স! মানে সম্ভাবনা! দেখো ছোকরা, সম্ভাবনা এতই কম যে আমি সেটা মুখে উচ্চারণ করতে পারছি না, মানে দশমিকের পর কটা শূন্য আছে গুলিয়ে ফেলব। লিখতেও পারছি না, কারণ অত কাগজ এই তল্লাটে নেই।"
"কেন স্যার? ওকি, আপনি বেত বার করছেন যে!"
"কেন? ভারী জটিল প্রশ্ন। যাইহোক, এই যে বেত দেখছ, এটা বোধহয় স্ট্রেঞ্জ কোয়ার্ক দিয়ে তৈরি। যখন পেটাই, ছাত্ররা অদ্ভুত-অদ্ভুত আওয়াজ করে।"
"আপনার আচরণ বড়োই নিষ্ঠুর। আমি মর্মাহত হলাম। এক্ষুণি চলে যাচ্ছি।"
"হ্যাঁ, যাও। সোজা ব্ল্যাকহোলে গিয়ে ঢুকে পড়ো।"

Durdantoooooooooooo
ReplyDeleteAkdom
DeleteSerraaaaaa chilooooo😅
ReplyDeleteHahahahhahaaahahhahha.....
ReplyDeleteBechara.....