Sunday, November 8, 2020

সময় ভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা

 শয়নকক্ষে গাবদা মডেলের ফোনটা দেখে চমকে চারাপোনা হয়ে গেলাম। এই প্রাচীন সময়ে তো টেলিফোনের অস্তিত্ব ছিল না! এ আবার কোন টাইমলাইনে এসে পড়লুম? যে-গুপ্তবাবুর দেহে সাময়িকভাবে নিজের চেতনার অধিষ্ঠান ঘটিয়েছি, তাঁর পোশাক ও গয়না একেবারে হুলুস্থুল গোত্রের জবরজং। চুনোপুঁটি হয়ে আচমকা রাজা-টাইপ লোকজনদের দেহে ঢুকে পড়লে অস্বস্তি হয়েই থাকে।



ফোনটা বাজতে আরম্ভ করল। ক্রিং ক্রিং..

ফোন আমার ঘরে, আমাকেই ধরতে হবে। ধরলুম। গলা খাঁকারী দিয়ে নিখুঁত সংস্কৃতে বললাম, "কে আমাকে চাইছেন তা কী অনুগ্রহ করে জানতে পারি?"

ও-প্রান্ত থেকে বিদঘুটে বিদেশি ভাষায় জবাব এল, "এ ক্যাওড়া!" 

সৌভাগ্যক্রমে এই ভাষাও আমাকে শিখেই আসতে হয়েছে। কিন্তু এই রকম কটু বাক্য সম্রাটের উদ্দেশ্যে, ব্যাটার আস্পর্ধা তো কম নয়! আমি খেঁকিয়ে উঠলুম, "কী? ভদ্রতা শেখেননি দেখছি। ফোন ধরে প্রথমে হ্যালো, নমস্কার ইত্যাদি বলতে হয় জানেন না? অশিক্ষিত ব্র্যান্ডের ধুপকাঠি কোথাকার!"

"ধুপকাঠি!"

"আজ্ঞে হ্যাঁ। জ্বালালে ঘরের সুগন্ধ শুষে নেয়।"

"শোন বে, জ্ঞান আর ভদ্রতা তোর ভুঁড়িতে গুঁজে রাখ। চিনিস আমাকে?"

আমি গলা শানিয়ে নিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললাম, "আপনি নিজেকে নিজে চেনেন না? কতবার প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন বদনে?"

"শোন, আমি হুন-রাজা। এশিয়া ইউরোপ কাঁপাচ্ছি। এবার তোর রাজত্ব ফালাফালা করে দিতে যাব। চুপচাপ আত্মসমর্পণ করে ফেল, তা হলে রাজসভা মোছার চাকরি দিতে পারি।"

হুন! শিউরে উঠলাম আমি। সেই আতঙ্ক ছড়ানো সাম্রাজ্যবাদী হিংস্র জাতি! তবে একে আমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ঢোক সমেত ভয়টা গিলে ফুঁৎকার দিয়ে বললাম, "আমি তো একমাত্র জ্বর হলে কাঁপি স্যার। আপনি কি ম্যালেরিয়ার বাহক?"

"ধ্যাস্টমো হচ্ছে? গিয়ে যখন ঘেটি পাকড়ে নৃত্য করাবো, মজা দেখতে পাবি।"

"মজা আমিও দেখাতে জানি রে, কুমড়োপটাশ। সামনে আয়, মুখে স্রেফ দাড়ি ঘষে দিলে উকুনের উপদ্রবে আত্মহত্যা করবি।"

.

খট করে রিসিভার রেখে দিয়ে ফিকফিক করে হাসলাম। ব্যাটা তো আর ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি জানে না, তাই এত হাঁকডাক! 

কয়েকদিন আরাম করে সম্রাটের দায়িত্ব পালন করলাম। চৌষট্টি ব্যঞ্জন দিয়ে আহার করলাম। সংগ্রহ করলাম বিভিন্ন তথ্য। দুগ্ধফেননিভ শয্যায় ঘুমালাম। তারপর একদিন নিজের চেতনা ফিরিয়ে নিয়ে গেলাম নিজের সময়ে, নিজের শরীরে। 

কিছু মাসের মধ্যেই হুনরা তেড়ে আসে গুপ্ত সাম্রাজ্য আক্রমণ করতে। স্কন্দগুপ্তবাবু তাদের ধরে এমন জব্বর পিটুনি দেয় যে, আগামী পঞ্চাশ বছর অবধি এই সাম্রাজ্যের দিকে তারা চোখ তুলে তাকাতেও সাহস পায়নি।


5 comments:

  1. এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল কেন???😢😢

    ReplyDelete
    Replies
    1. যুদ্ধটাও খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়েছিল।

      Delete
  2. এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল কেন???😢😢

    ReplyDelete
  3. এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল কেন???😢😢

    ReplyDelete