মহাকাশযানটা স্থির হয়ে সৌরজগতের বাইরে অপেক্ষা করছে। কৃত্রিম এক ধরণের তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে যানের বহিরাবরণ থেকে। কোয়ান্টাম এন্টঙ্গলমেন্টের তত্বের বহু বিবর্তন ঘটিয়ে আবিষ্কৃত হয়েছে এই বিশেষ তরঙ্গ। এই তরঙ্গের একটা মাত্র অণু সিস্টেমে থাকে, এবং দূরে পাড়ি দেওয়া তরঙ্গ যে-যে তথ্যের মুখোমুখি হয়, তা মুহূর্তে চলে আসে সিস্টেমে রক্ষিত অনুতে। তরঙ্গ না বলে তরঙ্গ আকশী বলা ভুল হবে না। এরা ছড়িয়ে পড়ছে বলা ভুল, একদিকে ধেয়ে যাচ্ছে তারা। পৃথিবীর দিকে।
"তথ্য আসা আরম্ভ হয়েছে। ডি কোড পদ্ধতি কি শুরু করব?"
"কেন করবে না?"
"এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।"
"গর্দভ! করতে বলছি।"
"আচ্ছা।"
।
"প্রধান প্রাণী দু-পেয়ে। মানুষ বলা হয়। নারী ও পুরুষ এই দু'ভাগে বিভক্ত।"
"তারপর?"
"কাজের দিক থেকে দেখলে নারীদের কাজের পরিমান পুরুষদের থেকে যথেষ্ট বেশি। কিন্তু অর্থনীতিতে তা গুরুত্ব পায় না। অধিকাংশ নারী যে-সব কাজে ব্যস্ত সেখানে মূল্যের আদানপ্রদান হয় না, ফলস্বরূপ তা এই গ্রহের অর্থনীতির মূল্যায়ন-এর হিসেবে আসে না। "
"ভাল ব্যাপার। পুরুষ আর নারী নিজেদের কাজের ক্ষেত্র ভাগ করে নিয়েছে। মেলবন্ধনটা অতি জরুরি।"
"না। ভাগ করে নিয়েছে ঠিক তা নয়। অনেকটা বাধ্য হয়ে এমন অবস্থা চলছে। অধিকাংশ নারী শিক্ষা অর্জনে প্রবল বাধা পায়, পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন ধর্মে আটকে গিয়ে। শিক্ষার অভাব মানেই অসচেতনতার প্রাচুর্য। যা যে কোনও বুদ্ধিমান প্রাণীকে কুপমণ্ডূক করে রেখে দেয়। শিক্ষিত নারীরা কর্মক্ষেত্রেও যৌনলালসার শিকার হয়ে থাকে। "
"হাস্যকর কিন্তু ভয়াবহ অবস্থা। সমাজের মাথারা-ই তবে সমাজ চালানোর সাধারণ নিয়ম সম্বন্ধে অবহিত নয়। নিম্নস্তরের সমাজ। তা হলে তো-"
"আরেকটা ব্যাপার-"
"কী?"
"এই গ্রহ যতক্ষন সময় নেয় নিজে একবার আবর্তন করতে সেটাকে 1 দিন ধরা হয়। আজকে একটা বিশেষ দিন। বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।"
"মানে? তাদের জন্য একটা দিন দেগে দেওয়ার মানে?"
"জনঘনত্ব বেশি এমন অঞ্চলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মাথায় আজকে এই সংক্রান্ত নানা কথা ঘুরছে। নারীকে সম্মান করা উচিত সেই বিষয়ে।"
"বিরক্তিকর! এই গ্রহের মানুষের তো মানসিক বৈকল্য ঘটেছে দেখছি। অনুন্নত সভ্যতা।"
"এর নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ আছে। মহাকাশে যান-ও পাঠিয়েছে জীবিত মানুষ সমেত। অনুন্নত বলাটা ঠিক কী?"
"অবশ্যই ঠিক। একটা জাতির উন্নতি নির্ভর করে সমগ্র প্রজাতিকে সুষ্ঠু বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার এক একটা অঙ্গ হিসেবে কেমন করে ব্যবহার করা হচ্ছে। অসমান দৃষ্টিভঙ্গি খুব বিপজ্জনক, এবং এটি পুরো সভ্যতাকে দূর ভবিষ্যতে ধ্বংস করে দিতে পারে।
"হ্যাঁ। তথ্য পাচ্ছি। ইতিমধ্যে দু'টি বড় যুদ্ধ হয়ে গেছে এই গ্রহে। সত্যিই তাই, প্রকৃতি অসাম্য সহ্য করে না।"
"একটা দিন নারীজাতিকে দেওয়া হচ্ছে! এটা একটা অত্যন্ত বালখিল্য কাজ। সম্মান ভাল জিনিস, কিন্তু তা অন্তরের। দেখানো যায় না। যেটা দেখানো হয়, সেটা আসলে এক ধরণের অসম্মান। সম্মান প্রকাশ পায় আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে, দিন ঘোষণা করে নয়। দিন ঘোষণা না করে এই গ্রহে নারীদের সমমর্যাদা ও সুবিধা দেওয়ার জন্য নীতি গ্রহণ করে তা কতটা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। একদিন নয়, বছরভর। তা ছাড়া অতিরিক্ত সম্মান দিয়ে কী বোঝাতে চায় এরা? সমস্ত ক্ষেত্রে প্রাপ্য সুবিধা না দিয়ে বছরে একদিন ভণ্ডামি করলেই হয়ে গেল বিবেক পরিষ্কার? প্রাণীরাই একটা সভ্যতার ইঁট। এই মূল ছোট্ট সাধারণ জিনিসটা কেউ মনে রাখতে পারে না। দিন পালন করছে! আর কোনও পজিটিভ কাজ নেই? ইস এরা একেবারে নিচু স্তরে রয়েছে। ধুস! "
"কী হুকুম?"
"চল এখন থেকে। আমাদের উদ্দেশ্য মহাবিশ্বের উন্নতশীল গ্রহে আমাদের প্রযুক্তিবিদ্যা ও বিজ্ঞানের জ্ঞান দান করা, যাতে তাদের সভ্যতা দ্রুত এগোয়। এর ফলে আমরা বন্ধু হয়ে উঠব। কিন্তু এখানে কিচ্ছু হবে না। এরা যে-পর্যায়ে আছে, আমাদের বদান্যতা নেওয়ার মতো-ও মানসিকতা এদের গড়ে ওঠেনি। "
।
মহাকাশযান কোয়ার্ক ইঞ্জিনের শক্তি বৃদ্ধিতে মন দিল। পরের লক্ষ্য তেষট্টি আলোকবর্ষ দূরে। অত সময় নেই। ওয়ার্মহোল তৈরি করে হাইপার জাম্প দিয়ে যেতে হবে। তার জন্য অনেকটা এনার্জি দরকার ক্ষুদ্র সময়ের জন্য।
।
"নারীদিবস!" হাইপার জাম্প দেওয়ার ঠিক আগে সে ভাবছিল, "এ-রকম আরও অদ্ভুত জিনিস অন্যান্য গ্রহে আমি দেখেছি। অনুন্নত গ্রহে, অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। দেখলে হাসি পায়।"
"তথ্য আসা আরম্ভ হয়েছে। ডি কোড পদ্ধতি কি শুরু করব?"
"কেন করবে না?"
"এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।"
"গর্দভ! করতে বলছি।"
"আচ্ছা।"
।
"প্রধান প্রাণী দু-পেয়ে। মানুষ বলা হয়। নারী ও পুরুষ এই দু'ভাগে বিভক্ত।"
"তারপর?"
"কাজের দিক থেকে দেখলে নারীদের কাজের পরিমান পুরুষদের থেকে যথেষ্ট বেশি। কিন্তু অর্থনীতিতে তা গুরুত্ব পায় না। অধিকাংশ নারী যে-সব কাজে ব্যস্ত সেখানে মূল্যের আদানপ্রদান হয় না, ফলস্বরূপ তা এই গ্রহের অর্থনীতির মূল্যায়ন-এর হিসেবে আসে না। "
"ভাল ব্যাপার। পুরুষ আর নারী নিজেদের কাজের ক্ষেত্র ভাগ করে নিয়েছে। মেলবন্ধনটা অতি জরুরি।"
"না। ভাগ করে নিয়েছে ঠিক তা নয়। অনেকটা বাধ্য হয়ে এমন অবস্থা চলছে। অধিকাংশ নারী শিক্ষা অর্জনে প্রবল বাধা পায়, পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন ধর্মে আটকে গিয়ে। শিক্ষার অভাব মানেই অসচেতনতার প্রাচুর্য। যা যে কোনও বুদ্ধিমান প্রাণীকে কুপমণ্ডূক করে রেখে দেয়। শিক্ষিত নারীরা কর্মক্ষেত্রেও যৌনলালসার শিকার হয়ে থাকে। "
"হাস্যকর কিন্তু ভয়াবহ অবস্থা। সমাজের মাথারা-ই তবে সমাজ চালানোর সাধারণ নিয়ম সম্বন্ধে অবহিত নয়। নিম্নস্তরের সমাজ। তা হলে তো-"
"আরেকটা ব্যাপার-"
"কী?"
"এই গ্রহ যতক্ষন সময় নেয় নিজে একবার আবর্তন করতে সেটাকে 1 দিন ধরা হয়। আজকে একটা বিশেষ দিন। বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।"
"মানে? তাদের জন্য একটা দিন দেগে দেওয়ার মানে?"
"জনঘনত্ব বেশি এমন অঞ্চলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মাথায় আজকে এই সংক্রান্ত নানা কথা ঘুরছে। নারীকে সম্মান করা উচিত সেই বিষয়ে।"
"বিরক্তিকর! এই গ্রহের মানুষের তো মানসিক বৈকল্য ঘটেছে দেখছি। অনুন্নত সভ্যতা।"
"এর নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ আছে। মহাকাশে যান-ও পাঠিয়েছে জীবিত মানুষ সমেত। অনুন্নত বলাটা ঠিক কী?"
"অবশ্যই ঠিক। একটা জাতির উন্নতি নির্ভর করে সমগ্র প্রজাতিকে সুষ্ঠু বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার এক একটা অঙ্গ হিসেবে কেমন করে ব্যবহার করা হচ্ছে। অসমান দৃষ্টিভঙ্গি খুব বিপজ্জনক, এবং এটি পুরো সভ্যতাকে দূর ভবিষ্যতে ধ্বংস করে দিতে পারে।
"হ্যাঁ। তথ্য পাচ্ছি। ইতিমধ্যে দু'টি বড় যুদ্ধ হয়ে গেছে এই গ্রহে। সত্যিই তাই, প্রকৃতি অসাম্য সহ্য করে না।"
"একটা দিন নারীজাতিকে দেওয়া হচ্ছে! এটা একটা অত্যন্ত বালখিল্য কাজ। সম্মান ভাল জিনিস, কিন্তু তা অন্তরের। দেখানো যায় না। যেটা দেখানো হয়, সেটা আসলে এক ধরণের অসম্মান। সম্মান প্রকাশ পায় আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে, দিন ঘোষণা করে নয়। দিন ঘোষণা না করে এই গ্রহে নারীদের সমমর্যাদা ও সুবিধা দেওয়ার জন্য নীতি গ্রহণ করে তা কতটা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। একদিন নয়, বছরভর। তা ছাড়া অতিরিক্ত সম্মান দিয়ে কী বোঝাতে চায় এরা? সমস্ত ক্ষেত্রে প্রাপ্য সুবিধা না দিয়ে বছরে একদিন ভণ্ডামি করলেই হয়ে গেল বিবেক পরিষ্কার? প্রাণীরাই একটা সভ্যতার ইঁট। এই মূল ছোট্ট সাধারণ জিনিসটা কেউ মনে রাখতে পারে না। দিন পালন করছে! আর কোনও পজিটিভ কাজ নেই? ইস এরা একেবারে নিচু স্তরে রয়েছে। ধুস! "
"কী হুকুম?"
"চল এখন থেকে। আমাদের উদ্দেশ্য মহাবিশ্বের উন্নতশীল গ্রহে আমাদের প্রযুক্তিবিদ্যা ও বিজ্ঞানের জ্ঞান দান করা, যাতে তাদের সভ্যতা দ্রুত এগোয়। এর ফলে আমরা বন্ধু হয়ে উঠব। কিন্তু এখানে কিচ্ছু হবে না। এরা যে-পর্যায়ে আছে, আমাদের বদান্যতা নেওয়ার মতো-ও মানসিকতা এদের গড়ে ওঠেনি। "
।
মহাকাশযান কোয়ার্ক ইঞ্জিনের শক্তি বৃদ্ধিতে মন দিল। পরের লক্ষ্য তেষট্টি আলোকবর্ষ দূরে। অত সময় নেই। ওয়ার্মহোল তৈরি করে হাইপার জাম্প দিয়ে যেতে হবে। তার জন্য অনেকটা এনার্জি দরকার ক্ষুদ্র সময়ের জন্য।
।
"নারীদিবস!" হাইপার জাম্প দেওয়ার ঠিক আগে সে ভাবছিল, "এ-রকম আরও অদ্ভুত জিনিস অন্যান্য গ্রহে আমি দেখেছি। অনুন্নত গ্রহে, অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। দেখলে হাসি পায়।"

Darun..amio ak mot.kntu prokasse blte gele seta loke ulto bjhe.
ReplyDeleteযারা উল্টো বুঝবে তারা লোক নয়। 😊
Deleteযেটা দেখানো হয়, সেটা আসলে এক ধরণের অসম্মান। সম্মান প্রকাশ পায় আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে, দিন ঘোষণা করে নয় 😘😘😘
ReplyDeleteসেটাই বক্তব্য। 😍
Delete