ইনফিনিটি ওয়ারঃ একটি প্রতিক্রিয়া
স্বর্ণেন্দু সাহা
উঁচুমানের পরাক্রমী শাসকেরও নিজের শাসন পদ্ধতির প্রতি এক
ধরণের পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। থ্যানোস, যে চায় ছ’খানা ইনফিনিটি স্টোন কবজা করে
সমগ্র ব্রম্ভান্ডে তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে, তারও সুচিন্তিত একটা হিতকারী মনোভাব
রয়েছে। অর্থনীতির তত্ত্ব অনুযায়ী, দারিদ্রের অন্যতম কারণ হল জনসংখ্যার বৃদ্ধি। তাই
জনবিস্ফোরণ ঘটলে কেউ-ই আর তার চাহিদা মতো যথেষ্ট খাবার পেতে সক্ষম হয় না।
বেঁচে থাকা হয়ে ওঠে কষ্টকর, গ্লানিময়। এবং অভাবই জন্ম দেয় দ্বেষের, হিংসার। অপরের
থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজের চাহিদা পূরণ করার মতবাদ তো ডারউইন-ই কত আগে ব্যাখ্যা করে
গেছেন। সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট।
গ্যামোরা-র গ্রহে মানুষ চাপা পড়ে ছিল অভাবের তলায়। থ্যানোস
ও তার বাহিনী সেই গ্রহের অর্ধেক প্রানীকে মেরে ফেলে। ফলস্বরূপ, বর্তমানে ওই গ্রহের
প্রত্যেকে পেটভরে খেতে পাচ্ছে। দূর হয়ে গেছে যাবতীয় সমস্যা।
এই দর্শন, যা আপাতচক্ষে নির্মম মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে হয়ত
অন্যায় নয়। জোর করে তেতো ওষুধ গেলানো একটা অসুস্থ বাচ্চার কাছে নিষ্ঠুর ঠেকলেও
আসলে তাতে তার-ই উপকার। দেখার ক্যানভাসটাকে ছড়িয়ে দিলে কী দেখা যাচ্ছে? একটা সমগ্র
স্পিসিসকে রক্ষা করার জন্য, তাদের যাবতীয় অনটন, সমস্যা থেকে রেহাই দেওয়ার
উদ্দেশ্যে যদি অর্ধেককে মেরে ফেলতে হয়, সত্যিই কি তা অন্যায় হিসেবে পরিগণিত হবে?
ইনফিনিটি ওয়ার এই প্রশ্ন তুলে দিল।
আবার এ-ও বলা যেতে পারে, এমন পদক্ষেপ মানবিকতা বোধটারই সলিল
সমাধি ঘটিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সভ্যতা একটা জাতিকে শেখায় পশু প্রবৃত্তিগুলোকে
ঢেকে রাখতে, সংযত হতে। নিজে আধপেটা খেয়ে মা বড় করে তোলে তার সন্তানকে। বাবা নিজে
হেঁটে-হেঁটে ঘাম ঝড়ালেও সন্তানের জন্য বরাদ্দ থাকে রিক্সা ভাড়া। এই সবই কিন্তু
একটা জাতির মেরুদন্ড গড়ে তোলে।
থ্যানোসের মতে, ভালভাবে বাঁচার জন্য কিছু প্রানীকে সরিয়ে
দিলে সকলেরই মঙ্গল। এই সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে
সে কোনও পক্ষপাতিত্ব করবে না। ধনী-গরীব, শত্র-মিত্র দেখবে না।
একটা-একটা করে মহাবিশ্বের সমস্ত গ্রহে এমন পরিকল্পনাকে
বাস্তবে রূপ দেওয়া শ্রমসাপেক্ষ ব্যাপার। তাই থ্যানোস ঠিক করল, সমস্ত বিশ্বের জীবিত
প্রাণীর অর্ধেককে একবারে, এক তুড়িতে ধ্বংস করে দেবে। এই অবিশ্বাস্য পরিকলপনার
সাফল্যের জন্য প্রয়োজন ওই ছ’খানা পাথর। যা কিনা বিগ ব্যাং এর সময় তৈরী হয়ে বিশ্বের
বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
দেখে নেওয়া যাক কোন পাথরের কী ক্ষমতা।
সোল(Soul) স্টোন(রং=সবুজ)যে-কোনো
জীবিত অথবা মৃত প্রাণীর আত্মাকে চুরি, নিয়ন্ত্রণ ও ইচ্ছামত চালনা করা যায় এই
পাথরের মাধ্যমে।
টাইম স্টোন(রং=কমলা) অতীত, ভবিষ্যৎ দেখা যায়, সেখানে সশরীরে
যাওয়া যায়। দরকার মতো সময়ের স্রোতের গতি বাড়ানো-কমানো সম্ভব, স্রোতের গতিমুখ
পাল্টে দেওয়াও যেতে পারে। পরিবর্তন করে দেওয়া যায় অতীত বা ভবিষ্যৎ। যে-কোনো কিছুর
বয়স কমানো-বাড়ানো যায়। একজন কোনও মানুষ বাঁ গোটা বিশ্বকে আটকে দেওয়া যায় একটা
সময়ের ঘূর্ণিতে, যে ক্ষমতার নমুনা সামান্যভাবে দেখা গেছে ডক্টর স্ট্রেঞ্জের
ক্লাইম্যাক্সে।
স্পেস স্টোন(রং=নীলচে-বেগুনি) এটিকে প্রথম দেখা গিয়েছিল
ক্যাপটেন আমেরিকাতে। এর ব্যবহারকারী ইচ্ছামত যে-কোনো জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে।
যে-কোনো বস্তুকে তার জায়গা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে দিতে পারে। স্পেসকে বাঁকিয়ে দেওয়া কিংবা নতুন করে গড়া
জলভাত। শুধুমাত্র চিন্তা করেই পলকে নিজেকে নিয়ে যেতে পারে বিশ্বের সব জায়গায়।
ফিজিক্সের ল-কে ব্যঙ্গ করে দু’টো
বস্তুর মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে দিতে পারে।
মাইন্ড স্টোনঃ(রং=নীল) ব্যবহারকারীর মানসিক শক্তি বাড়বে।
যে-কোণো মানুষের চিন্তা পড়ে ফেলার, নিয়ন্ত্রণ করার ও তার স্বপ্নে ঢুকে যেতে পারার
ক্ষমতা চলে আসবে। এই পাথর স্কারলেট উইচ ও কুইকসিলভারকে তাদের শক্তি যোগায়।
রিয়্যালিটি স্টোন(রং=হলুদ) এর মাধ্যমে যে-কোনও ইচ্ছাপূরণ
ঘটবে। বিজ্ঞানের নিয়মের বাইরে হলেও সেই ইচ্ছা বাস্তবে পরিণত হবে। অসম্ভব কিছু করে
ফেলা সম্ভব এই পাথর ব্যবহার করে। তৈরী করে ফেলা যায় আলটারনেট রিয়্যালিটি। অ্যাসগারডের
অধিবাসীরা এই পাথরটা কালেকটরের কাছে দিয়েছিল রেখে দেওয়ার জন্য।
পাওয়ার স্টোন(রং=লাল) সব ধরণের শক্তি ব্যবহার ও প্রয়োজনমত
বদলানোর ক্ষমতা। এর মাধ্যমে যে-কেউ নিজের শারীরিক শক্তি ও সহ্যক্ষমতা বাড়িয়ে ফেলতে
পারে। এবং অন্যান্য পাঁচটা পাথরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও সক্ষম।
নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য থ্যানোস যে-কোনো সীমা অবধি যেতে
প্রস্তুত হয়। সাফল্যের পথে কিছু আত্মত্যাগ যদি করতেই হয়, তা করা অন্যায় নয়।
থ্যানোস কাঁদতে থাকে তার সন্তান গ্যামোরা যাকে সে সবথেকে
ভালবাসে তাকে বলিদান দেওয়ার আগে। তবু সে পিছপা হয় না। তার চাই সোল স্টোন। আর তার
জন্য নিজের সবথেকে প্রিয়-কে বিসর্জন দিতে হবে।
পৃথিবীতে রয়েছে দু’টি পাথর। একটি ডক্টর স্ট্রেঞ্জের কাছে।
টাইম স্টোন। আর আরেকটি রয়েছে ভিসনের কপালে। মাইন্ড স্টোন। থ্যানোস তার বাহিনির
দু’জনকে পৃথিবীতে পাঠায় ওই দু’টি পাথর নিয়ে আসতে।
বাধা হয়ে দাঁড়ায় পৃথিবীর অ্যাভেঞ্জারস-রা। জোরদার যুদ্ধ হয়
নিউইয়র্কে। ব্রুস ব্যানার হাল্ক হওয়ার চেষ্টা করেও হতে ব্যর্থ হয়। কারণ এই প্রথম
হাল্ক কোনও কিছুতে ভয় পেয়েছে। ভয় পেয়েছ থ্যানোসকে। সরাসরি যুদ্ধে খুব সহজেই
থ্যানোস হাল্ককে কুপোকাত করে দিয়েছিল। তাই সে আর ব্রুস ব্যানারের ভিতর থেকে বেরিয়ে
আসতে চাইছে না। রুখে দাঁড়ায় আয়রন ম্যান আর ডক্টর স্ট্রেঞ্জ। পিটার পার্কার-ও বাসের
জানলা থেকে লাফ দিয়ে চলে আসে যুদ্ধের ময়দানে।
থ্যানোসের নিজের গ্রহে গিয়ে হামলা করে টনি স্টারক, পিটার
পার্কার, ড্রাক্স, স্টার লর্ড। ওরা চেষ্টা করে
ইতিমধ্যেই চারটে পাথর সংগ্রহ করা গ্লাভসটা থ্যানোসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার। কিন্ত গ্যামোরাকে থ্যানোস মেরে
ফেলেছে জানতে পেরে রাগে অন্ধ হয়ে যাওয়া স্টার লর্ডের বোকামিতে বিপাকে পড়েও থ্যানোস
সবাইকে অতি সহজে হারিয়ে দেয়। তাকে সাহায্য করে চারটে পাথরের অসীম ক্ষমতা। সেই
ক্ষমতার সামনে ঠুনকো লাগে বাকিদের।
ডক্টর স্ট্রেঞ্জ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল টনিকে, “তুমি কখনও
মৃত্যুর সম্মুখীন হলেও আমি কিন্তু এই টাইম স্টোন হাতছাড়া করতে পারব না।”
কিন্তু শেষ অবধি টনি-র প্রাণের বিনিময়ে ডক্টর স্ট্রেঞ্জ
টাইম স্টোন তুলে দেয় থ্যানোসের হাতে। টনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে যে, সে কেন এমন করল। স্ট্রেঞ্জ জবাব দেয়, “এটাই একমাত্র উপায়।”
পাঁচটা স্টোন কবজা করে থ্যানোস অবশেষে পৃথিবীতে এসে পৌঁছয়।
তার দরকার শুধু ভিসনের মাথায় শোভা পাওয়া পাথরটা।
ওয়াকান্ডা। যেখানে সম্রাট ব্ল্যাক প্যান্থার ও তার
সৈন্যবাহিনী, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, উইনটার সোলজার লড়ছে থ্যানোসের বাহিনীর সঙ্গে।
স্কারলেট উইচ চেষ্টা করে ভিসনের কপালের মাইন্ড স্টোন ধ্বংস করে দেয় তার নিজস্ব
ইচ্ছাশক্তির তরঙ্গ দিয়ে। সেই সঙ্গে ভিসন-ও মারা যায়। এটা না করলে থ্যানোস ওই পাথর
নিয়ে নিত যা কিছুতেই হতে দেওয়া যাবে না।
কিন্তু না। থ্যানোস তার টাইম স্টোনের সাহায্যে ভিসনকে জীবিত
করে নিয়ে তার কপাল থেকে উপড়ে নেয় পাথর। লাগিয়ে নেয় তার পাঞ্জায় পরা গ্লাভসের
নির্দিষ্ট জায়গায়।
থর নেমে এসে তখনই তার নতুন অস্ত্রটা থ্যানোসের বুকে ঢুকিয়ে
দেয়। থ্যানোস বলে, “তোমার উচিত ছিল আমার মাথায় আঘাত করা।” এবং ছ’টা পাথরে সজ্জিত
হাত তুলে তুড়ি বাজায় দু’আঙ্গুলে। ব্যস।
থ্যানোসের গ্রহে থাকা ড্রাক্স, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ এবং
স্পাইডারম্যান গুঁড়ো-গুঁড়ো হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। একইভাবে
নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় পৃথিবীতে থাকা ব্ল্যাক
প্যান্থার, গ্রুট এবং আরও অনেকে। মহাবিশ্বের এনট্রপি কমে যেতে থাকে ক্রমশ।
কারণ থ্যানোস তার কথামত ছ’টা স্টোনকে কাজে লাগিয়েছে তুড়ি
মেরে। তাই, ব্রম্ভান্ডের অর্ধেক জীব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
ডক্টর স্ট্রেঞ্জ টাইম স্টোনের সাহায্যে জানতে পেরেছিল এই
ভয়াবহ যুদ্ধের ফল কী হতে পারে। সে জেনেছিল, কয়েক কোটি সম্ভাবনা আছে এই যুদ্ধের।
তার মধ্যে মাত্র একটায় থ্যানোস পরাজিত হয়।
সুতরাং, আন্দাজ করা যায় সেই একটামাত্র সম্ভাবনায় টনি
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, তাই তার বেঁচে থাকা জরুরি। এবং তাই ডক্টর স্ট্রেঞ্জ
নিজের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যেতে পারে জেনেও পাথর থ্যানোসের হাতে তুলে দেয়, যাতে
টনির প্রাণ বাঁচে। কারণ, বড় ক্যানভাসের দিকে খেয়াল রাখা। টাইম স্টোন রক্ষা জরুরি,
কিন্তু তার থেকেও জরুরি মহাবিশ্বের নিরাপত্তা।
এই ছবির ভাল দিকগুলির মধ্যে রয়েছে থ্যানোসের চরিত্রের বুনন।
সংলাপের মধ্যে আচমকা চলে আসা মজা। সিরিয়াস ডক্টর স্ট্রেঞ্জের সঙ্গে প্লে বয়
স্টারকের মোলাকাতের মুহূর্ত। আয়রন স্পাইডার স্যুটের কেরামতি। ডক্টর স্ট্রেঞ্জের
সাথে থ্যানোসের যাদু-যুদ্ধের পরিস্থিতিটা দারুণ। ভিস্যুয়াল নিয়ে কোনও সমালোচনার
তেমন জায়গা নেই।
স্কারলেট উইচের শক্তির পরিমাণ কম নয়। তার এই শক্তির খানিকটা
নমুনা দেখা গেছে এই ছবিতে।
হতাশ করেছে আয়রন ম্যানের ব্লিডিং এজ আর্মার। কমিকস অনুযায়ী
অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতি রোবটিক পদার্থ টনি-র শরীরের ভেতরে থাকে। ইচ্ছা করলেই রোমকূপ
দিয়ে সেগুলি বেরিয়ে এসে দরকারমত আঁকার নিতে সক্ষম, যে-কোনো অস্ত্র গজিয়ে যাবে
স্রেফ চিন্তা করলেই।
ছবিতে এই ব্যাপারটাকে তেমন জমকালো মনে হয়নি। তা ছাড়া এমন
কায়দা ট্রান্সফরমারসে প্রচুর দেখা, তাই নতুন ভাবে পরিচালনার দরকার ছিল অ্যাকশন
সিকোয়েন্সগুলো। সব চরিত্র সমান
গুরুত্ব পায়নি। চিত্রনাট্যে সবাইকে উপযুক্ত জায়গা দেওয়া হয়নি। যা শোধরালে এই ছবি
মানের দিক দিয়ে আরও উন্নত হতে পারত।
কারা মারা গেল এই ছবিতে?
লোকি, থরের বন্ধু হেইমড্যাল, গ্যামোরা, ভিসন।
কারা মিশে গেল বাতাসে, নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল?
ব্ল্যাক প্যান্থার, স্পাইডারম্যান, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ, উইনটার
সোলজার, ফ্যালকন, স্কারলেট উইচ, স্টার লর্ড, গ্রুট, ম্যান্টিস, ড্রাক্স, নিক
ফিউরি, মারিয়া হিল।
কারা বেঁচে রইল থ্যানোসের আক্রমনের হাত থেকে?
ক্যাপটেন আমেরিকা, আয়রন ম্যান, থর, ব্ল্যাক উইডো, হাল্ক,
ওয়ার মেশিন, রকেট, নেবুলা।
এ ছাড়াও হক আই-এর দেখা মেলেনি এই ছবিতে। দেখা যায়নি অ্যান্ট
ম্যানকেও।
শেষে অদ্ভুত একটা বিষণ্ণতা ছড়িয়ে পড়তে থাকে চারিদিকে। একের
পর এক মানুষ ধুলো হয়ে যাচ্ছে।
আয়রন ম্যানের কোনও খোঁজ নেই। সে আসলে রয়েছে থ্যানোসের
গ্রহে।
নিক ফিউরি, অ্যাভেঞ্জারস তৈরীর আইডিয়া যার মস্তিক্সপ্রসু্ত,
সে যখন দেখল তার সামনে তার অ্যাসিস্ট্যান্ট-ও মাঝরাস্তায় বাতাসে মিশে গেল গুঁড়ো
হয়ে... চলন্ত গাড়ি থেকে চালক উধা...চালকহীন হেলিকপ্টার আছড়ে পড়ল শহরের অট্টালিকার
গায়ে।
নিক ফিউরি চট করে মেসেজ পাঠাল কাউকে। এবং তারপরেই সে নিজেও ধীরে-ধীরে
গুঁড়ো হয়ে গেল। মেসেজ গেছে কার কাছে?
সেলফোনের পর্দায় ফুটে উঠল একটা সিম্বল, যা অসম্ভব বিখ্যাত
এক চরিত্রকে নির্দেশ করে। ক্যাপ্টেন মারভেল!
ক্যাপ্টেন মারভেল। সবথেকে ক্ষমতাসম্পন্ন মহিলা অ্যাভেঞ্জার। যার শক্তি হল--উড়তে
পারা, মারাত্মক দৈহিক শক্তি, এবং নিজের হাত থেকে এনার্জি বিম ছুঁড়তে পারা ও
শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা।
বেঁচে যাওয়া অ্যাভেঞ্জারস এবং ক্যাপটেন মারভেল একত্রে জড়ো
হবে। সঙ্গী হবে অ্যান্ট ম্যান ও হক আই। ওদের লক্ষ্য মহাশক্তিধর হয়ে ওঠা থ্যানোসের
কাছ থেকে ছ’টা পাথর ছিনিয়ে আনা। নয়ত এই বিপুল শক্তি নিয়ে থ্যানোস ইতিমধ্যেই
মহাবিশ্বের অর্ধেক বিলুপ্ত করে দিয়েছে জাগতিক অস্তিত্ব থেকে। ভবিষ্যতে আরও কী করবে
ভাবা মুশকিল।
ফিরিয়ে আনা যেতে পারে মুছে যাওয়া অ্যাভেঞ্জারসদের-ও। থ্যানোস কিন্তু কখনই বলেনি যে সে অর্ধেক প্রানীকে মেরে
ফেলবে। বলেছিল অস্তিত্ব থেকে মুছে ফেলার কথা। কমিক্স অনুযায়ী সোল স্টোনের ভিতরের জগতে চলে
যায় সমস্ত আত্মা। সে-জগতের হদিশ মিলেছে ইনফিনিটি
ওয়ারের শেষে, যখন থ্যানোসকে দেখা যায় কমলা রঙের একটা গ্রহে বাচ্চা গ্যামোরা-র
সঙ্গে কথা বলতে। সেই জগতে প্রবেশ করতে সক্ষম একমাত্র অ্যান্ট ম্যান। অ্যান্ট ম্যান
কোয়ান্টাম জগতে(যেখানে টাইম-স্পেসের কোনও অস্তিত্ব নেই) ঢুকে তার মাধ্যমে...
হ্যাঁ। লড়াই আরও বাকি।
অপেক্ষা আগামী বছর মে মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত।
No comments:
Post a Comment